
ঢাকা, ১ এপ্রিল ২০২৬: আগামী চার বছরের মধ্যে দেশব্যাপী চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও কার্যকর ও মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দিতে এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, ব্যক্তি নয়—পরিবারকে উন্নয়নের মূল একক হিসেবে বিবেচনা করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের প্রধান নারী সদস্যের নামে প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর হাতে সহায়তা পৌঁছালে তা পরিবারের খাদ্য, পুষ্টি, চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ফলে অপচয় কমে এবং পরিবারের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু থাকলেও দারিদ্র্য হ্রাস ও পুষ্টির উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তাই একটি সমন্বিত ও ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে দেশের কয়েকটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনের কিছু ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে এর আওতায় আনা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের আশা, ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।