
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদ মানেই আনন্দ, মিলনমেলা আর স্বজনদের সঙ্গে সুখ ভাগাভাগির মুহূর্ত। কিন্তু এবারের ঈদে সেই আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে একের পর এক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনায়। সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা, নৌপথের বিপর্যয় এবং সহিংসতার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ।
ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। এতে অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালনা এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিভিন্ন জেলায় বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া নৌপথেও নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, লাইফ জ্যাকেটের অভাব এবং নিয়ম না মানার ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় আহতদের অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও পুরোপুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার অভাবই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তারা মনে করেন, চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এদিকে প্রিয়জন হারানোর শোকে অনেক পরিবারে ঈদের আনন্দ পরিণত হয়েছে বেদনায়। যে সময়টি ছিল খুশি ভাগাভাগির, সেটিই হয়ে উঠেছে কান্না আর শোকের সময়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে প্রতি বছরই ঈদের আনন্দ এভাবেই ম্লান হয়ে যাবে মৃত্যুর মিছিলে।