বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
জামালপুরে ৩১ পিস ইয়াবাসহ যুবদল নেতা ইমন সরকার গ্রেপ্তার না ফেরার দেশে চলে গেলো ফাহিম। আমার এই লেখাটির অবস্থান মানুষের মনের যাদুঘরে পূণরায় জুতো মারার আকাঙ্ক্ষাই হোক মানবতার সবচাইতে বড় আশ্রয় এবং প্রতিবাদের বজ্রধণি। ৪ বছরে চার কোটি পরিবার পাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত, বিরোধীদলের আপত্তি আরও চার জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ ঈদের পথে থেমে গেল ট্রেন, আটকে গেল হাজারো মানুষের ঘরে ফেরার স্বপ্ন সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষে নিহত ২, নিখোঁজ আরও ৩ ঈদের আনন্দ ঢেকে গেলো মৃত্যুর মিছিলে। কুমিল্লায় ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১২, আহত অন্তত ১০,ঈদের রাতে শোকের ছায়া

আমার এই লেখাটির অবস্থান মানুষের মনের যাদুঘরে পূণরায় জুতো মারার আকাঙ্ক্ষাই হোক মানবতার সবচাইতে বড় আশ্রয় এবং প্রতিবাদের বজ্রধণি।

Reporter Name

ড.মিনা বুলবুল হোসাইন
নির্বাহী ব্যবস্থাপক,বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি.

ইতিহাসের কিছু মুহূর্ত কেবল সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তারা মানুষের মনের ভেতর এক অমোচনীয় চিহ্ন রেখে যায়। ২০০৮ সালে ইরাকের সাহসী সাংবাদিক Muntadhar al-Zaidi যখন জুতো ছুঁড়ে দিয়েছিলেন George W. Bush-এর দিকে, তখন সেই মুহূর্তটি ছিল এক নিঃশব্দ বিস্ফোরণ—অবদমিত মানবতার দীর্ঘশ্বাসের দৃশ্যমান রূপ।

এই জুতোমারা ছিল না কোনো ব্যক্তিগত ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ; এটি ছিল ইতিহাসের প্রতি এক প্রতিবাদ, যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক নৈতিক উচ্চারণ। এটি কোনো রক্ত ঝরায়নি, কিন্তু কোটি কোটি মানুষের অন্তর্গত রক্তক্ষরণের ভাষা হয়ে উঠেছিল। সেই মুহূর্তে জুতোটি আর বস্তু ছিল না—এটি হয়ে উঠেছিল এক প্রতীক, এক অভিব্যক্তি, এক আত্মমর্যাদার পুনর্জাগরণ।

আজকের বিশ্বে আমরা যখন তাকাই, দেখি—Iran ও Israel-এর সংঘাত, এবং তার সাথে জড়িয়ে থাকা United States-এর ক্ষমতার ভারসাম্য—সব মিলিয়ে মানবতা যেন এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে যুদ্ধ কেবল ভূখণ্ড দখলের লড়াই নয়; এটি মানুষের অস্তিত্ব, চেতনা এবং নৈতিকতার ওপর এক নিরবচ্ছিন্ন আঘাত।

শহর ভেঙে পড়ে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভেঙে পড়ে মানুষের ভেতরের বিশ্বাস। শিশুরা স্বপ্ন দেখতে শেখার আগেই ভয়কে চিনে ফেলে। মায়েরা আশার বদলে প্রার্থনায় আশ্রয় খোঁজে। আর এই বাস্তবতার ভেতরেই জমে ওঠে এক অদৃশ্য ক্ষোভ—যা কোনোদিন না কোনোদিন প্রতীকের ভাষায় প্রকাশ পেতে চায়।

সেই প্রতীকই ছিল সেই জুতো।

“মানুষের মনের যাদুঘর”—এটি কেবল একটি কাব্যিক অভিব্যক্তি নয়; এটি এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্য। মানুষের ভেতরে জমে থাকা অভিজ্ঞতা, বেদনা, অপমান ও আকাঙ্ক্ষা—সবকিছুই এক অদৃশ্য যাদুঘরে সংরক্ষিত থাকে। আর সেখানে কিছু প্রতীক চিরকাল বেঁচে থাকে। সেই জুতোও তেমনই এক প্রতীক—যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও গভীর অর্থ ধারণ করে।

এই লেখার আকাঙ্ক্ষা কোনো সহিংসতা নয়; বরং এটি এক নৈতিক প্রতিরোধের রূপ। এখানে “জুতো মারার আকাঙ্ক্ষা” মানে হলো—
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস,
ক্ষমতার অন্ধত্বকে প্রশ্ন করার শক্তি,
এবং মানবতার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার দৃঢ়তা।

মনস্তাত্ত্বিকভাবে, এটি এক ধরনের মুক্তি—একটি ক্যাথারসিস, যেখানে মানুষ তার অবদমিত অনুভূতিগুলোকে প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করে। তারা অনুভব করে—
“আমরা নীরব নই; আমরা কেবল সঠিক ভাষার অপেক্ষায় আছি।”

এই লেখাটি সেই ভাষারই অনুসন্ধান।
এটি কোনো সহিংসতার আহ্বান নয়, বরং এক নৈতিক জাগরণের ডাক—
যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের বিবেককে প্রশ্ন করবে।

শেষ পর্যন্ত, ইতিহাসে টিকে থাকে! নাকি ক্ষমতার দম্ভ,
টিকে থাকে প্রতিরোধের প্রতীক।

আর সেই প্রতীক—এক জোড়া জুতো—
আজও আমাদের শেখায়,
মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় সাহস।

এটি কোনো আঘাতের আহ্বান নয়, বরং এক জাগরণের আহ্বান।
একটি প্রশ্ন—যা প্রতিটি বিবেকবান মানুষের সামনে দাঁড়ায়:
আমরা কি নীরব দর্শক হয়ে থাকব, নাকি মানবতার পক্ষে দাঁড়াব?

আর তাই, যদি এই লেখা মানুষের মনের যাদুঘরে একটি প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকে—
যদি এটি মানুষের অন্তরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ জ্বালাতে পারে—
তবে সেটিই হবে কলম ধরে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার সবচেয়ে বড় মর্যাদাসম্পন্ন আদর্শিক কৌশল ও সার্থকতা।

কারন ওদের আমি ছোট ভাবি মার্কিনীদের উদ্দেশ্যে ঘৃণা ভরে পরিশেষে যে কথাটি বলতে চাই
তা-হলো
মানুষ যেকোন বিবেচনায় যত বড়ই হোক না কেন নৈতিকতা ও বিনয় না থাকলে সে বিশ্বব্যপি মানুষের কাতারে ছোট জাতের অমানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page