
ঈদ মানেই বাড়ি ফেরা। প্রিয়জনের মুখ দেখার অপেক্ষা, দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নই হঠাৎ থমকে গেল এক দুর্ঘটনায়।
ঢাকা থেকে নীলফামারীর পথে ছুটে চলা নীলসাগর এক্সপ্রেস—যেখানে ছিল ঘরমুখো অসংখ্য মানুষ, কারও হাতে ব্যাগ, কারও চোখে আনন্দ—হঠাৎ করেই বগুড়ার সান্তাহারের কাছে লাইনচ্যুত হয়। মুহূর্তেই আনন্দের যাত্রা পরিণত হয় আতঙ্কে।
ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। যারা ছাদে ছিলেন, তারা পড়ে গিয়ে আহত হন। চারপাশে চিৎকার, দৌড়ঝাঁপ—এক অস্থির দৃশ্য। কেউ ফোনে প্রিয়জনকে জানাচ্ছেন, “আমি ঠিক আছি”, আবার কেউ খুঁজছেন পাশে বসা মানুষটাকে।
এই এক দুর্ঘটনায় শুধু ট্রেন থামেনি—থেমে গেছে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ। আটটি জেলার মানুষ যেন হঠাৎ করেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে ট্রেন, আর ভেতরে অপেক্ষা করছে অসহায় যাত্রীরা—কখন আবার চলবে, কেউ জানে না।
কেউ ঈদের আগে বাড়ি পৌঁছাতে পারবেন কি না, সেই অনিশ্চয়তায় বুক ভার হয়ে আছে অনেকের।
শোনা যাচ্ছে, লাইনে আগে থেকেই ত্রুটি ছিল। সতর্কতার জন্য সংকেতও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো এক ভুল, কোনো এক অমনোযোগ—আর তাতেই এমন বড় বিপর্যয়।
এখন উদ্ধারকাজ চলছে। রেললাইন ঠিক করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু মানুষের মনে যে দাগ পড়ে গেল, সেই ভয় আর অনিশ্চয়তা—তা মুছতে সময় লাগবে।
ঈদের আনন্দের পথে এমন এক থেমে যাওয়া গল্প—যেখানে গন্তব্যের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তার প্রশ্ন।