শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

তেল পাইপলাইনে হামলা, কী করবে সৌদি

Reporter Name

সৌদি আরবের অত্যন্ত কৌশলগত এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে সম্প্রতি একটি শক্তিশালী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক হামলার পর যেকোনো ধরনের বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ১০ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং পাইপলাইনের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি পাম্প স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে কোনো পক্ষ হামলার দায় স্বীকার না করলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, ইরাক থেকে আসা ড্রোনের মাধ্যমে এই নাশকতামূলক হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও জানানো হয় যে, ইরাক থেকে উৎক্ষেপিত কয়েকটি ড্রোন রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে আঘাত হেনেছে। এর ফলে তেল সরবরাহের অবকাঠামোতে কিছু ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয় এবং কিছু মানুষ আহত হন।

এই ঘটনার পর সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা পাল্টা হামলার পথে না হেঁটে পরিস্থিতি কূটনৈতিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী এই হামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় ও সুযোগ চেয়েছেন। তাই রিয়াদ আপাতত ইরাক সরকারকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এ ধরনের হামলা রোধ করার সুযোগ দিতে চায়, যা তাদের কূটনৈতিক পরিপক্বতারই ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে ইরাক সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এর পেছনে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে একটি জরুরি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বাগদাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কখনোই অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের পক্ষ থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জন্য এই ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে দেশের তেল পরিবহন সচল রাখতে এই পাইপলাইনের ওপর নির্ভরতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল এই পথের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হয়, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page