
গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সাধারণ রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে দূরের হাসপাতাল বা বেসরকারি ফার্মেসির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দ জটিলতা, সরবরাহ ব্যবস্থার ধীরগতি এবং চাহিদার তুলনায় কম মজুদের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো সাধারণ রোগের ওষুধের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি।
গ্রামবাসীরা জানান, আগে কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া গেলেও এখন অধিকাংশ সময়ই ‘স্টক নেই’ বলে জানানো হচ্ছে। ফলে দরিদ্র রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় তারা রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে পারছেন না। এতে সরকারের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা না গেলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। তারা জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ সরবরাহ বাড়ানো এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সারা দেশে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এবং এটি পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।