
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী এলাকায় পদ্মা নদীতে ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে একটি পিকনিকের নৌকা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এর ফলে নৌকায় থাকা যাত্রীদের একটি বড় অংশ চরম বিপদের মুখে পড়েন এবং তিন জন যাত্রী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি উত্তাল নদীতে পড়ে যান। রাতের আঁধারে ঘটিত এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় নদী পারাপার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা থেকে প্রায় ১২৩ জনের একটি বৃহৎ দল ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকায় চড়ে আনন্দভ্রমণের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে গিয়েছিলেন। দিনভর আনন্দ-উল্লাস শেষে ফেরার পথে রাত সোয়া নয়টার দিকে নৌকাটি পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছায়। ওই সময় নদীর পানির তীব্র স্রোতের কারণে চালক নৌকার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সেটি সজোরে ব্রিজের ৫ নম্বর পিলারের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে তলিয়ে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে মো. লিটন হোসেন এবং মো. ওয়াহাব নামের দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে নৌকা থেকে ছিটকে পড়া অপর যাত্রী মো. রকি হোসেন এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নদীগর্ভে নিখোঁজ রয়েছেন।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া এই উদ্ধার অভিযান ও তল্রোটের কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে। আনন্দঘন একটি ভ্রমণ এভাবে আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে রূপ নেওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।