
প্রবাস ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী সরবরাহের কোটা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ২০ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। সম্প্রতি দেশটির তামান দাতুক আহমাদ রাজালি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটক করে। আটককৃত ব্যক্তিদের বয়স তেইশ থেকে সাতচল্লিশ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুত্রজায়ায় অবস্থিত অভিবাসন সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশনস ডিভিশন এবং ইনল্যান্ড রেভিনিউ বোর্ডের যৌথ টিম এই ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযان চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট এবং নগদ অর্থ জব্দ করে। এর মধ্যে দুই শ ষাটটি বাংলাদেশি, তেষট্টিটি ইন্দোনেশীয়, বারোটি পাকিস্তানি এবং একটি ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে। এছাড়া গ্রাহকদের দেওয়া অর্থ হিসেবে সন্দেহ করা প্রায় ছয় হাজার সাতশত মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতও উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশি পুরুষকে ওই অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবস্থাপক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয় জন স্থানীয় নারী কর্মী এবং বারো জন বিদেশি গ্রাহককে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে নয় জন বাংলাদেশি পুরুষ ও তিন জন ইন্দোনেশীয় নারী রয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটি বিদেশি কর্মী আমদানির ক্ষেত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল এবং কোটা পাওয়ার জন্য ভুয়া তথ্য ব্যবহার করেছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, চক্রটি নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘এ-টু-বি’ পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছিল। এর মাধ্যমে একটি কোম্পানি কর্মী আনার অনুমোদন নিলেও তাদের আসল মালিকের অধীনে কাজ না করিয়ে অবৈধভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে উচ্চমূল্যে সরবরাহ করা হতো। এই অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাথাপিছু প্রায় তিন হাজার আটশত থেকে পাঁচ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত মুনাফা লুটত চক্রটি। এছাড়া বড় অংকের কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো তাদের প্রকৃত আয়ের হিসাব গোপন রাখত এবং ২০২০ সাল থেকে ব্যক্তিগত আয়ের বিবরণীও জমা দেয়নি।