
জাতীয় ডেস্ক: মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা মানুষের প্রতি অবহেলা না করে তাদের প্রতি আরও বেশি সহমর্মিতা ও সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই কথা বলেন। রাষ্ট্রপ্রধান মনে করেন, মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পরিবার এবং সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। তাই দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, এবারের দিবসের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করাই এই স্লোগানের মূল লক্ষ্য। মানুষের সার্বিক সুস্থতা, কর্মদক্ষতা এবং জীবনমান উন্নত রাখতে মানসিক স্বাস্থ্যের ভালো থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান যুগের নানা সামাজিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ, একাকিত্ব এবং জীবনযাত্রার প্রতিকূলতা মানুষের মানসিক অবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে বলে বাণীতে উল্লেখ করা হয়। দৈনন্দিন জীবনের এসব চাপ সামলানোর পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার মতো মানসিক সুস্থতার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে দেশের সব মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক চিকিৎসাকে যুক্ত করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। এ ছাড়া অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে মানসিক সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।