
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বর্তমান প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু অমীমাংসিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু নির্বাচনী পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে আলট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের সামরিক সেবা সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়টি। দেশটির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে এই অতি-রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের লোকজন বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছে। তবে এই বিশেষ সুবিধা বাতিল করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও মতপার্থক্য বিরাজ করছে।
সামরিক সেবার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ছাড় নীতি বজায় রাখা উচিত কি না, তা নিয়ে ইসরায়েলি সমাজে তীব্র মেরুকরণ লক্ষ করা যাচ্ছে। এক পক্ষ এই বিশেষ সুবিধার অবসান ঘটিয়ে সব নাগরিকের জন্য সমান আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, আলট্রা-অর্থোডক্স দলগুলো তাদের ধর্মীয় জীবনধারা ও অধ্যয়নের পরিবেশ বজায় রাখতে এই অব্যাহতি বহাল রাখার পক্ষে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, এই মতপার্থক্যগুলো ততই প্রকট রূপ ধারণ করছে, যা নির্বাচনী প্রচারণাকে উত্তপ্ত করে তুলছে। রাজনৈতিক দলগুলো এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মেরুকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে, যার ফলে সরকার গঠন প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে। সব মিলিয়ে, আসন্ন এই নির্বাচন ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় ধরনের সংঘাত ও অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।