বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
মেসি–সভ্যতার অবসান সকালে নেতৃত্ব ছাড়লেন হারমানপ্রীত, রাতে অধিনায়ক হলেন স্মৃতি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় জ্বালানি পাঠানোর তথ্য ফাঁস আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রথম সোনা, ১৬ জনের ১৫ জনই পদকজয়ী ১০ অক্টোবর ঢাকায় ‘রিয়েল এস্টেট কানেক্ট বাংলাদেশ’, চলছে নিবন্ধন শ্রেয়াসের প্রথম সেঞ্চুরি, ৩২ বল হাতে রেখেই জয় ভারতের নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাস, দিনে ৫০-৭০ লাখ ঘনফুট উত্তোলনের আশা মেসির জার্সিটা আমি নেবই, মায়ের কসম: বেনিনি ডিফেন্ডার নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, প্রতিদিন মিলতে পারে ৭০ লাখ ঘনফুট বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি বানাবে টয়োটা, উৎপাদন শুরু ২০২৭ সালে

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় জ্বালানি পাঠানোর তথ্য ফাঁস

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন সংঘাত চলমান থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাঠানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বন্দর ও জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিভিন্ন নথির বিশ্লেষণে জানা গেছে, এই বাণিজ্যের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত বেশ কিছু ট্যাংকারও ব্যবহার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসা এই তথ্য বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন বন্দর থেকে প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার টনের বেশি জ্বালানি বা ডিজেল বোঝাই করা হয়। এসব জ্বালানি পরিবহনের জন্য মোট সাতটি ট্যাংকার ব্যবহার করা হয়েছে যা রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর উদ্দেশ্যে মোট চৌদ্দটি ট্রিপ সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে অন্তত তিনটি জাহাজ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার কালোতালিকাভুক্ত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ‘লায়লা’ এবং ‘অ্যাস্টরিয়া’ নামের ট্যাংকারগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দর থেকে সরাসরি ডিজেল বোঝাই করে রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছে দেয়। এছাড়া ‘ছংছং’ নামের আরেকটি অবরুদ্ধ জাহাজ সমুদ্রের মাঝখানে অন্য একটি জলযানের কাছ থেকে জ্বালানি বুঝে নিয়ে রাশিয়ার দিকে রওনা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝসমুদ্রে এ ধরনের জাহাজ বদল বা শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার মূলত পণ্যের মূল উৎস গোপন করার একটি সুকৌশলী পদ্ধতি।

ফিনল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের বন্দর থেকে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাংকারে করে রাশিয়ায় জ্বালানি পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত বিস্ময়কর। এই ধরনের বাণিজ্য কার্যক্রম একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের পক্ষে সিউলের অবস্থানকেও কূটনৈতিক সংকটের মুখে ফেলছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলোতে উৎপাদন হ্রাসের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এই আমদানির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার আইনি কাঠামোর আওতায় এই জ্বালানি চালান সরাসরি অবৈধ না হলেও, বিষয়টি পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা কৌশলকে দুর্বল করে দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোরভাবে বজায় রাখছে। তবে সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ থেকে সিউল বিরত থাকায়, রাশিয়ায় জ্বালানি রপ্তানির এই নতুন তথ্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থানকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page