রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :

দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশে শিক্ষকরা হেনস্তা হচ্ছেন: ঢাবির সাবেক উপাচার্য

Reporter Name

দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশের শিক্ষকরা প্রায়শই হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ‘শিক্ষকদের সামাজিক সুরক্ষা ও প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে করণীয়’ শীর্ষক ওই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সংকট, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা এবং তাঁদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় করণীয় বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

রাজনীতির লোকজন যেন শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান প্রদান করে, সেই পরিস্থিতি সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে সাবেক এই উপাচার্য তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখতে হবে, পেশাগত উৎকর্ষ বাড়াতে নিয়মিত পড়াশোনা ও অনলাইনভিত্তিক কোর্স করতে হবে এবং শিক্ষকদের নিজ দক্ষতার ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন করে এই পেশাকে আরও বহুমুখী করতে হবে। বিরাজনীতিকরণ কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি জানান, দলীয় রাজনীতির প্রতি সাধারণ শিক্ষকদের বিরক্তি থাকলেও রাজনীতি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, বরং রাজনীতিকে সঙ্গে রেখেই শিক্ষকদের নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হবে।

আলোচনা সভায় শিক্ষকদের অবসরকালীন নানা ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সামান্য বেতনের কারণে শিক্ষকদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, আর অবসরের পর তাঁদের কষ্টের সীমা থাকে না। পেনশনের টাকা পেতে দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা জটিলতার শিকার হন শিক্ষকরা। তিনি অবসর গ্রহণের তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ পেনশন পরিশোধের দাবি জানান। পাশাপাশি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থী বাদ দেওয়ার সমালোচনা করেন তিনি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারাও দেশের শিক্ষাঙ্গনের নানা অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ কওমি শিক্ষাধারায় সুনির্দিষ্ট তত্ত্বাবধান না থাকায় যত্রতত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন অভিযোগ করেন যে অনেক প্রবীণ শিক্ষক ক্লাসে না গিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতায় ব্যস্ত থাকেন, যার ফলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক নষ্ট হয়। বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আবদুর রহমান রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page