
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কাঁচকলা এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম চালান পাঠানোর পর থেকে এ পর্যন্ত আনুমানিক ২০০ টন কাঁচকলা বিদেশে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে তিনটি পৃথক চালানের মাধ্যমে এই কৃষিপণ্য পাঠানো হচ্ছে। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন মাসে রপ্তানির পরিমাণ ৬ থেকে ১৮ টনের মধ্যে হয়ে থাকে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগ দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি খাতে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তা জামিল ওয়াহেদ মুহিদের প্রতিষ্ঠান ‘সাদিদ গ্লোবাল এক্সপোর্টস’ এই রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কালীগঞ্জের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কাপাসিয়া উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকেও কাঁচকলা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কার্গো বিমানের মাধ্যমে পাঠানো এসব পণ্যের যুক্তরাজ্যের মূল আমদানিকারক হিসেবে কাজ করছে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান উসমান ব্রাদার্স লিমিটেড। মূলত লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও আশপাশের এলাকার বাজারে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের মধ্যে এই কাঁচকলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্থানীয় কৃষিপণ্যের এই চাহিদা বাড়ার ফলে দারুণ উপকৃত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, আগে শুধু স্থানীয় বাজারের ওপর নির্ভর করতে হতো এবং অনেক সময় উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যেত না। এখন রপ্তানিকারকেরা সরাসরি খেত থেকে কাঁচকলা সংগ্রহ করায় বাজারজাতকরণের কোনো ঝুঁকি থাকছে না এবং কৃষকেরাও তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন। তবে বিদেশি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় উৎপাদন বাড়ানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রপ্তানিকারক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী এক বছরে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টন কাঁচকলা রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদনের পাশাপাশি পণ্যের মান বজায় রাখা এবং সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও প্রবেশ করার জোরালো পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। এছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে এই রপ্তানি ধারা আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে কাজ করছে।