শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
ট্রাম্পের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা হুমকির পর ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিল জি-৭ গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু, ঝুঁকিতে রোগীরা রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামবাহী তিন লরি আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে বিবস্ত্র করার অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মানুষের শরীরে মাধ্যাকর্ষণ শক্তিহীন পরিবেশের প্রভাব জানতে মহাকাশে গেলেন চার নভোচারী ইউনিফর্ম পরে টহল দেয় আমস্টারডামের ‘পুলিশ বিড়াল’ দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের চাপে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়বে জি-৭ বিলুপ্তির মুখে থাকা কুমিরকে বাঁচাতে কম্বোডিয়া যা করছে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন রণতরিসহ ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের চাপে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়বে জি-৭

Reporter Name

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে জরুরি মজুত থেকে বড় অংকের জ্বালানি তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭। সম্প্রতি জোটভুক্ত দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা এই বিষয়ে একটি যৌথ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে মোট ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে, যা বিশ্ববাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এই চুক্তির আওতায় জি-৭ভুক্ত দেশগুলো নিজেদের জ্বালানি তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর ওপর দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের সংরক্ষিত ভাণ্ডার থেকে তেল ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রবল চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে ইউরোপ যদি এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি তেল রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ছিল, কারণ বর্তমান সময়ে তারা মার্কিন ডিজেলের আমদানির ওপর যথেষ্ট পরিমাণে নির্ভরশীল। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের এই কৌশলী অবস্থানের ফলেই ইউরোপীয় অংশীদাররা জরুরি ভিত্তিতে তেলের মজুত ছাড়ার এই জোরালো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও কঠোর কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে মূলত রাজনৈতিক স্বার্থ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের ঠিক আগে আগে জ্বালানির এই ঊর্ধ্বমুখী বাজারদর যেকোনো মূল্যে নিয়ন্ত্রণে আনতে সচেষ্ট রয়েছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইতিপূর্বে গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, তেলের দাম ভোটারদের নাগালের মধ্যে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে এই বিশেষ চাপ সৃষ্টি করে।

জি-৭ জোটের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে তেলের এই বিশাল মজুত ছাড়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে এবং আগামী চার মাস ধরে তা অব্যাহত থাকবে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী কুড়ি দিনের মধ্যেই জোটের দেশগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ডিজেল বাজারে সরবরাহ করবে। তবে ১০ কোটি ব্যারেল মোট জ্বালানির মধ্যে ঠিক কী পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং কী পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল থাকবে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে আরও অতিরিক্ত ডিজেল ছাড়ার প্রয়োজন পড়লে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার কাঠামোর আওতায় খুব শীঘ্রই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

মূলত নিজ দেশের ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কঠোর জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত রয়টার্স ও ইপসোসের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে যে মার্কিন রাষ্ট্রপতির জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র বত্রিশ শতাংশে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন রেকর্ড। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যর্থতার কারণে মাত্র সতেরো শতাংশ সাধারণ নাগরিক তার বর্তমান ভূমিকার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এই রাজনৈতিক নাজুক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেই মূলত জ্বালানির দাম কমানোর এই মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন হোয়াইট হাউসের কর্ণধার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page