
রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল সম্প্রতি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ডিওএইচএস থেকে তাঁকে আটক করে। পরে তাঁকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত সপ্তাহে বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সৌদি আরব থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। সেই সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। কিন্তু সেখানে উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন এবং দায়িত্বরত ওই কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় প্রকাশ্যে হুমকি দেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন এবং বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কে অত্যন্ত অসম্মানজনক মন্তব্য করেন। এছাড়া তাঁর সঙ্গে থাকা প্রটোকল কর্মীরা বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল কেপিআই এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। এ সময় একজন নিরাপত্তা সুপারভাইজার তাঁদের ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ওই কর্মকর্তাকে মারধর ও গালিগালাজ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিশৃঙ্খলার ওই সময়ে যাত্রীদের পবিত্র জমজমের পানির বোতল নষ্ট করা হয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গেও মারমুখী আচরণ করা হয়। এসব ঘটনার পর বিমানবন্দর থানায় সরকারি কর্মচারীকে মারধর, কাজে বাধা প্রদান এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য যাচাই-বাছাই করে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে।