
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পারিবারিক এক তুচ্ছ ঘটনার জেরে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শাশুড়ির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রতিবাদ করায় বাবাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর রহমান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিহত মহুবার রহমানের বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর এবং অভিযুক্ত হাসানুর তার ২২ বছর বয়সী সন্তান। সম্প্রতি রাতে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসানুরের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সম্পর্কের অবনতি চলছিল। সম্প্রতি তার শাশুড়িসহ কিছু আত্মীয় বাড়িতে এলেও হাসানুর তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেননি এবং যথোচিত সম্মান প্রদর্শন বা আপ্যায়ন করেননি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে অস্বস্তি ও বিরোধ তৈরি হলে বাবা মহুবার রহমান ছেলেকে বুঝিয়ে বলেন এবং শাশুড়িকে সম্মান দেখিয়ে কথা বলতে ও খাবার দিতে বলেন। কিন্তু বাবার এই সাধারণ উপদেশ ও শাসন একেবারেই মেনে নিতে পারেননি ক্ষিপ্ত হাসানুর।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বাবার কথা অমান্য করায় একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মহুবার রহমান ছেলেকে একটি থাপ্পড় দেন। এতে চরমভাবে উত্তেজিত হয়ে হাসানুর ঘরে থাকা একটি ধারালো ছুরি তুলে নেন এবং সরাসরি বাবার পেটে আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতের ফলে মহুবার রহমানের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর আগেও অভিযুক্ত হাসানুর বিভিন্ন সময়ে তার বাবার গায়ে হাত তুলেছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, হাসানুরের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এদিকে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানিয়েছেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত হাসানুরকে গ্রেফতারে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।