শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
শাশুড়িকে সম্মান না করায় বাবার চড়, ক্ষুব্ধ ছেলের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেই শুরু হবে হরমুজ খোলার সাত দিনের পরিকল্পনা: আরাগচি বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের ওপর ৬০ হামলা কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শ্রীলীলার এক পোস্টে ১ কোটি ১১ লাখ লাইক প্রতিবেশী দেশে ইসলামবিদ্বেষ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান শাহবাজের ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ এমবাপ্পের গোলে তুরস্কের বিপক্ষে জয়, শুরু হলো ফ্রান্সে জিদান-যুগ সরকারি মেডিকেল কলেজ: হাসপাতাল নেই ১২টিতে, ব্যবহারিক শিক্ষায় বাধা নায়কের স্ত্রী পছন্দ করতেন না, সিনেমা থেকে বাদ পড়ার অদ্ভুত কারণ জানালেন তাপসী

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের ওপর ৬০ হামলা

Reporter Name

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একের পর এক হামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যজুড়ে অন্তত ৬০টি এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের মোট ১৩টি জেলাজুড়ে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে, যা নিয়ে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনের তৎপরতার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নথিভুক্ত হওয়া মোট ৬০টি ঘটনার মধ্যে ৫২টি ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত প্রার্থনা সভা, বাড়ি, গির্জা এবং অন্যান্য খ্রিস্টান সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। বাকি আটটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে শারীরিক হামলা, সংঘবদ্ধ আক্রমণ এবং গির্জা বা প্রার্থনালয়ে ভাঙচুরের মতো গুরুতর অপরাধ। এছাড়া এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের পাঁচটি ঘটনা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তিনটি পৃথক বিক্ষোভের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে এই ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে, যেখানে উভয় জেলাই ১৩টি করে হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, হিন্দু সুরক্ষা সমিতি এবং হিন্দু সংহতির মতো উগ্র ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনের সদস্যদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছিল বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই প্রার্থনা সভায় চড়াও হয়ে আয়োজকদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ভুয়া অভিযোগ আনতেন এবং উপস্থিত লোকজনের ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করতে তাদের জোর করে আধার কার্ড প্রদর্শনের দাবি জানাতেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেশ কিছু ঘটনায় আক্রমণকারীরা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় একটি খ্রিস্টান সমাবেশে বাধা দেওয়ার সময় হামলাকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর বরদাশত করা হবে না। একইভাবে গত জুলাই মাসে বারাসতে নানামুখী হুমকির মুখে পড়েন খ্রিস্টান মিশনারিরা। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং উপাসনার স্বাধীনতা নিয়ে এই প্রতিবেদন এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page