বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
রাজমিস্ত্রি থেকে ‘হ্যাকিং সম্রাট’, দলে আছেন পুলিশ সদস্যও উখিয়ায় সমুদ্রসৈকত থেকে তিন অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার তরুণদের নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতিযোগিতা ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে রাশিয়া হোটেলে সরবরাহের জন্য গোপনে ১৩ ঘোড়া জবাই, ৯ জনের কারাদণ্ড ওসির ব্যতিক্রমী বিদায়, কেউ দিলেন গাছের লাউ, কেউ আনলেন দেশি মুরগি রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল আপনার শিশু নিখোঁজ হলে বা হারিয়ে গেলে কী করবেন? গাজীপুরে ট্রাকের সঙ্গে রিকশার সংঘর্ষে তিনজন নিহত যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রথম দিনেই ১০ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: মাহদী আমিন

রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল

Reporter Name

মাদ্রাসা শিক্ষায় কোরআনে হাফেজ হওয়ার পথ মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কঠিন পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন ওহিদুল ইসলাম। পেটের টানে প্রথমে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে জীবন চালানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন রিকশা চালানো। তবে অভাবের তাড়নায় ক্লান্ত এই যুবকের জীবনে কয়েক বছর আগে বড় ধরনের এক মোড় আসে, যখন তিনি জড়িয়ে পড়েন সাইবার অপরাধ বা হ্যাকিংয়ের অন্ধ দুনিয়ায়। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এই অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে আসেন।

প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বড় শিক্ষা বা কারিগরি ডিগ্রি না থাকলেও সহজাত বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার করে ওহিদুল অল্পদিনেই হ্যাকিংয়ের বিভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেন। সাধারণ পেশার আড়ালে তিনি গড়ে তোলেন সাইবার অপরাধের এক সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ পরিচালনা করা হতো। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ জীবনযাপন করলেও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নানা সম্পত্তির পাহাড় গড়তে সক্ষম হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অপরাধের এই রাজত্ব গড়ে তুলতে ওহিদুল অত্যন্ত সুকৌশলী ও চতুরতার পরিচয় দিয়েছিলেন যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া যায়। রিকশাচালক পরিচয়ের আড়ালে তার এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি স্থানীয়দের পাশাপাশি গোয়েন্দাদেরও অবাক করে দেয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে একজন সাধারণ পরিশ্রমী মানুষ অপরাধের মাধ্যমে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে পারে, ওহিদুলের এই ঘটনাটি তার এক অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

বর্তমানে এই সাইবার অপরাধীর সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ও তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং এই চক্রটি কীভাবে সাধারণ মানুষের ক্ষতি সাধন করছিল, তা উদঘাটনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধ জগতের এই চাঞ্চল্যকর উত্থানের ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page