
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মো. হামিম খান নামের চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্র রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে ওই শিশুটির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ হামিম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলাতে পারেননি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে মায়ের বকাঝকার শিকার হয়ে বাড়ি থেকে রাগ করে বের হয়ে গিয়েছিল হামিম। এরপর থেকেই সে আর নিজ বাড়িতে ফিরে আসেনি এবং আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িতেও তার দেখা মেলেনি। শিশুটির এই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তার পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। একমাত্র সন্তানের কোনো সন্ধান না পেয়ে বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এবং পাড়া-প্রতিবেশীরাও এই ঘটনায় গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন।
প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা ছাড়াও সম্ভাব্য সব স্থানে তার ছবি ও বিবরণ দিয়ে খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শিশুটির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করবে বলে আশা করছে পরিবার।
শিশুটি বরকত ও নিরাপদে দ্রুত নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সহায়তায় হামিমকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে সবাই আশা প্রকাশ করছেন। এই ধরনের ঘটনায় শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের আরও যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন সচেতন মহল।