রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

দুই জানাজা শেষে অপ্রতিমের দাফন

Reporter Name

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ সম্প্রতি যথাযথ মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে কুমিল্লা নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে শিশুটির জানাজায় অংশ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম স্থানীয় কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে সে মায়ের একটি আইফোন নিয়ে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিল এবং এরপর আর বাসায় ফেরেনি। শিশুটির কোনো খোঁজ না পেয়ে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার উদ্বিগ্ন হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেন। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যবান আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর পুলিশি তৎপরতা শুরু হয় এবং সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিন নামের ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করা হয়। পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আনাস নামের আরও একজনকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তের অগ্রগতি এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মেধাবী ও উদীয়মান এই শিশুর এমন নৃশংস পরিণতিতে সর্বত্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page