
মুন্সীগঞ্জ পৌর শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বেআইনিভাবে জলাশয় ভরাট করার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। পরিবেশ ধ্বংস ও পুকুর ভরাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ সম্প্রতি এই মানববন্ধনে অংশ নেন। প্রতিবাদকারীরা এই ধরনের অননুমোদিত কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন যাতে স্থানীয় প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী হাতে নানা ধরনের ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬৬ শতাংশ আয়তনের ওই ঐতিহাসিক জলাশয়টি ভরাট করা হলে এলাকায় জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন যে, এই ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেলে এলাকায় আর কোনো উন্মুক্ত জলশয় অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বা মহল অবৈধ উপায়ে এই জলাশয় ভরাটের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
অন্যদিকে অভিযুক্ত মো. নাফিজ প্রধান তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়া মেনে নিজস্ব কেনা জমি ব্যবহার করছেন। তার ভাষ্যমতে, ওই বৃহৎ জলাশয়ের মধ্যে তার নামে বৈধভাবে কেনা ৩৪ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে এবং তিনি কেবল নিজের মালিকানাধীন জমির সামান্য অংশই সংস্কার করছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে এলাকাবাসী তার সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জেনে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছেন।
এদিকে পুরো বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসার পর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান যে তারা অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের বিষয়টি সম্পর্কে ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।