
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় এক হতদরিদ্র নারীর চুরি যাওয়া গরু স্থানীয় এক বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার করার ঘটনা ঘটেছে। এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে গরু চুরির বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার একপর্যায়ে এই তথ্য সামনে আসে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলছারা জোয়ার বাড়ির বাসিন্দা হতি বেগম নামের এক হতদরিদ্র নারীর গোয়ালঘর থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে দুটি গরু চুরি হয়ে যায়। এরপর থেকে ওই নারীর স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন এলাকায় গরু দুটির সন্ধান করতে থাকেন। ঘটনার বেশ কিছুদিন পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয় লোকজন বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুর গোয়ালঘরে চুরি যাওয়া গরুগুলোর একটি দেখতে পান। গরুটি উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেলোয়ারের বাড়ির সামনে কৌতূহলী ও ক্ষুব্ধ জনতা ভিড় জমায়।
এদিকে খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গোয়ালঘর থেকে গরুটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন দেলু উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং কীভাবে একটি চুরি যাওয়া গরু একজন রাজনৈতিক নেতার গোয়ালঘরে পৌঁছাল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত নেতা নিজেই তাকে ফোন করে গরুটি নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা দেলোয়ার দাবি করেন যে, গভীর রাতে চোরেরা তার গোয়ালঘরে গরুটি রেখে গিয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কালু মিয়া ও তাজু নামের দুই ব্যক্তি পরদিন তাকে ফোন করে গরুটি বিক্রির প্রস্তাব দেন এবং তিনি বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করে গরুটি কিনে নেন। তবে তার এই দাবি নিয়ে জনমনে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে এবং এ নিয়ে এলাকায় কঠোর সমালোচনার ঝড় বইছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকে দল থেকে কারণ দর্শানোর বা শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম মজুমদার এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে জানান যে, দলীয় নিয়ম কঠোরভাবে মেনেই তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং আগামী তিনদিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন যে, পুলিশ পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে এবং এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।