রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

ব্যালন ডি’অরে ৬ষ্ঠ মেক্সিকান কুইনোনেস, সবারই স্বপ্ন এক

Reporter Name

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর মূলত ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব ও প্রতিযোগিতায় আলো ছড়ানো তারকাদের দখলেই থাকে। ঐতিহ্যগতভাবে এই তালিকায় লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা বা ইউরোপের খেলোয়াড়দের আধিপত্য দেখা গেলেও, মেক্সিকোর ফুটবলাররাও মাঝে মাঝে এই সম্মানজনক মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। সম্প্রতি আল-কাদসিয়াহ ও মেক্সিকো জাতীয় দলের তারকা হুলিয়ান কুইনোনেস ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এই অর্জনের ফলে তিনি মেক্সিকোর ইতিহাসে ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে এই সম্মানজনক মনোনয়ন পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন। তার এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত কোনো অর্জন নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলে মেক্সিকান খেলোয়াড়দের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন।

মেক্সিকান ফুটবলারদের জন্য ব্যালন ডি’অরের এই পথচলা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই, যার সূচনা করেছিলেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়া। ২০০৭ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি প্রথম মেক্সিকান হিসেবে এই তালিকার ৩০তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছিলেন। এরপর ২০১০ সালে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জনকারী ডিফেন্ডার রাফায়েল মার্কেজ এবং ২০১১ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো স্ট্রাইকার হ্যাভিয়ের ‘চিচারিতো’ হার্নান্দেজ এই তালিকায় নাম লেখান। বিশেষ করে চিচারিতো তার অভিষেক মৌসুমেই কুড়িটি গোল করে এবং প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে খেলে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। সময়ের সাথে সাথে মেক্সিকোর ফুটবলাররা ইউরোপের কঠিন প্রতিযোগিতায় নিজেদের মান প্রমাণ করতে সক্ষম হন, যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল পরবর্তী বছরগুলোতেও।

মেক্সিকান ফুটবলের ইতিহাসে ব্যালন ডি’অরের মনোনয়নের দিক থেকে ২০১৫ সালটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে, কারণ ওই বছর একসঙ্গে দু’জন খেলোয়াড় এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় জায়গা পেয়েছিলেন। সেবার জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার আন্দ্রেস গুারদাদো এবং আক্রমণভাগের প্রতিভাবান তারকা জিওভানি দস সান্তোস একসঙ্গে মনোনীত হয়ে দেশের ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছিলেন। তাদের সুনির্দিষ্ট পারফরম্যান্স এবং গোল্ড কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান সেই সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেক্সিকোর ফুটবল মানকে আরও উঁচুতে তুলে ধরেছিল। গোলরক্ষক ওচোয়া যে পথচলার সূচনা করেছিলেন, মার্কেজ, চিচারিতো ও গুয়ারদাদোরা সেটি আরও সুদৃঢ় করেন এবং তারই সর্বশেষ সংযোজন হলেন হুলিয়ান কুইনোনেস।

সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে হুলিয়ান কুইনোনেসের এই মনোনয়ন মেক্সিকোর ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে এবং তাদের স্বপ্নকে আরও প্রসারিত করেছে। আক্রমণভাগে তার অনবদ্য গতি, নিখুঁত গোল করার দক্ষতা এবং জাতীয় দলের জার্সিতে ধারাবাহিক ভালো খেলা তাকে বিশ্বের সেরা ৩০ জনের এই অভিজাত ক্লাবে পৌঁছে দিয়েছে। যদিও ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে চূড়ান্ত পুরস্কার জয় করার দূরত্ব বেশ দীর্ঘ এবং কঠিন, তবুও এই মঞ্চে নিজেদের নাম লেখানোই একজন খেলোয়াড়ের জন্য বিরাট স্বীকৃতি। ওচোয়া, মার্কেজ, চিচারিতো ও গুয়ারদাদোদের দেখানো সেই পথ ধরে কুইনোনেস এখন মেক্সিকান ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page