সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

দল থেকে বাদ পড়েই ট্রিপল সেঞ্চুরি দিয়ে জবাব পাকিস্তানি তারকার

Reporter Name

ইংল্যান্ড সফরে জাতীয় দলের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার বড় ধাক্কা কাটিয়ে ব্যাট হাতে দারুণ এক জবাব দিয়েছেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার সালমান আলি আগা। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের মাটিতে চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সফরকারী দলের হয়ে প্রথম টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলেও, পরবর্তী ম্যাচে একাদশে নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারেননি এই ক্রিকেটার। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট শুরুর ঠিক আগে পিসিবির কঠোর সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে আরও ছয় সতীর্থের সঙ্গে তাকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশের মাটিতে ফিরে হতাশাগ্রস্ত না হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের মনোযোগ দেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের কড়া জবাব দেন তিনি।

প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১ টুর্নামেন্টে কিংসমেন একাডেমির হয়ে মার্কহোর আইটি সলিউশন্সের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন এই অলরাউন্ডার। ম্যাচের শুরুতেই মাত্র ৭২ রানের মাথায় পরপর তিনটি উইকেট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিল তার দল কিংসমেন একাডেমি। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে উইকেটে এসে দলের ব্যাটিং ইনিংসের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন সালমান। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শুরুর বিপর্যয় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর ধীরে ধীরে চড়াও হন তিনি। ধৈর্য এবং আক্রমণাত্মক শটের অসাধারণ এক মিশ্রণ দেখিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে পুরোপুরি দিশেহারা করে তোলেন।

ধারাবাহিকভাবে রান তুলতে তুলতে একপর্যায়ে দুর্দান্ত এক ট্রিপল সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছে যান এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। মাত্র ৩৩৬ বল মোকাবিলা করে তিনি এই অবিশ্বাস্য তিনশ রানের ইনিংসটি উপহার দেন, যা ঘরোয়া ক্রিকেটে তার অসাধারণ দক্ষতারই প্রমাণ রাখে। জাতীয় দল থেকে এমন আকস্মিক বাদ পড়ার ঘটনা যেকোনো খেলোয়াড়ের মানসিক মনোবল ও আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সালমান সেই মানসিক অবসাদে না ভুগে সরাসরি নিজের ব্যাটকে কথা বলার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। ঘরোয়া আসরে তার এই নান্দনিক ও ম্যারাথন ইনিংসটি পাকিস্তান ক্রিকেটের চলমান অস্থিরতার মাঝে অত্যন্ত জোরালোভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। লিডসে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের পাশাপাশি লর্ডসের দ্বিতীয় টেস্টেও বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় সফরকারী দল। এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড স্কোয়াডে ব্যাপক রদবদল আনার কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সিরিজ বাঁচাতে এবং দলের পারফরম্যান্স উন্নত করতে তৃতীয় টেস্ট শুরুর আগে সালমানসহ মোট সাতজন ক্রিকেটারকে একসঙ্গে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। শুধু খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেই নয়, বরং দল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কোচিং স্টাফেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল পিসিবি।

পিসিবির এমন আকস্মিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময় দেশের ক্রিকেট মহলে নানা সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। তবে বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নকভি পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান যে, দলের স্বার্থে তাদের সামনে এছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান যে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কোনো খেলোয়াড়কে স্থায়ীভাবে দল থেকে বাদ দেওয়া নয়, বরং যারা নিজেদের সেরাটা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন তাদের বিকল্প খুঁজে বের করা। সালমান একজন ভালো মানের খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও নিজের ছন্দে না থাকায় তার সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page