সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, যারা পাবেন

Reporter Name

দেশের তরুণ সমাজকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনার লক্ষ্য নিয়ে একটি নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট থেকে ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি বিশেষ নীতিমালা জারি করা হয়। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণদের ব্যবসা শুরুর পথ যেমন সুগম হবে, তেমনি দেশের বেকারত্ব দূরীকরণেও এটি একটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন এই নীতিমালার আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ পাবেন। কারিগরি স্টার্টআপ, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হালকা প্রকৌশল শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং হস্তশিল্পসহ বৈধ যে কোনো ধরনের লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগ এই বিশেষ অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত হবে। কেবল সম্পূর্ণ নতুন ব্যবসা চালু করাই নয়, বরং যাদের ইতোমধ্যে চলমান কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ রয়েছে তারাও নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে সম্ভাবনাময় তরুণরা পুঁজির অভাব কাটিয়ে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন।

এই বিশেষ ঋণ সুবিধার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক প্রার্থীর বয়স আবেদন জমাদানের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ আঠারো থেকে আটাশ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং তাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ও বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। তবে ঋণখেলাপি ব্যক্তিরা এই সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত থাকবেন এবং ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি প্রতিবেদনে খেলাপি হিসেবে নাম থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে আবেদন বাতিল করা হবে। এছাড়া ইতিপূর্বে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তি এবং সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাও এই কর্মসূচির আওতা বহির্ভূত থাকবেন।

উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য মোট অর্থের একটি অনন্য মিশ্রণ বা ‘ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স’ পদ্ধতি রাখা হয়েছে, যার অর্ধেক হবে ব্যাংকঋণ এবং বাকি অর্ধেক হবে অনুদান বা ম্যাচিং গ্র্যান্ট। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যবসায় ১২ লাখ টাকার প্রয়োজন হলে উদ্যোক্তা ৬ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং বাকি ৬ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে সরাসরি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একযোগে লাভ করবেন। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং সময়মতো পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে অনুদানের অংশটিও সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তরিত হবে, যা পরবর্তীতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যাংকগুলো কঠোরভাবে আদায় করবে।

উপজেলা পর্যায়ে যোগ্য উদ্যোক্তা বাছাইয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখা থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্তরের যাচাই-বাছাই শেষে মনোনীত তরুণদের ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদানই নয়, বরং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বাজার সংযোগ স্থাপন এবং ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসা নিবন্ধনের মতো জরুরি কাজেও সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page