শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

পুরোনো প্রেমিকের হাতে স্ত্রীকে তুলে দিলেন স্বামী

Reporter Name

ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউ জেলার মালিহাবাদ এলাকায় সম্প্রতি এক অদ্ভুত ও অভাবনীয় ঘটনার অবতারণা হয়েছে। বিয়ের মাত্র এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর এক গৃহবধূ তার স্বামীর সংসার ছেড়ে পুরোনো প্রেমিকের হাত ধরে চলে যান। তবে এই ঘটনায় কোনো ধরনের হানাহানি বা তিক্ততার সৃষ্টি না হয়ে এক দারুণ মানবিক ও ব্যতিক্রমী সমাধান দেখা গেছে। স্ত্রীকে জোর করে নিজের কাছে আটকে না রেখে, তার দীর্ঘদিনের পুরোনো প্রেমিকের সঙ্গেই তাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে দিয়েছেন তার স্বামী। পুরো ঘটনাটি স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র কৌতূহল এবং আলোচনার ঝড় তুলেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা যায়, ওই নারী বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় পড়ে এবং স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেয় এবং মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে উত্তর প্রদেশের হারদোই এলাকা থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশের অভিযানে তার পুরোনো প্রেমিককেও খুঁজে পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে তাদের দুজনকে নিরাপদে মালিহাবাদ থানায় ফিরিয়ে আনা হয়।

থানায় নিয়ে আসার পর উভয় পরিবারের সদস্য এবং পুলিশের উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন সবাই। সেই আলোচনায় ওই নারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, তিনি তার বর্তমান স্বামীর সঙ্গে আর কোনোভাবেই সংসার করতে ইচ্ছুক নন এবং তার পুরোনো প্রেমিকের সঙ্গেই বাকি জীবন কাটাতে চান। পারিবারিক সূত্রগুলো পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানায় যে, ওই নারী ও তার প্রেমিক একসময় একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতেন এবং তাদের মধ্যে পুরোনো একটি প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের কঠোর চাপের মুখেই মূলত তিনি অন্য এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য হয়েছিলেন।

স্ত্রীর এমন দৃঢ় মনোবলের কথা শোনার পর তার স্বামী কোনো ধরনের জিঘাংসা বা জোরাজুরি না করার মহৎ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে, জোরপূর্বক কাউকে নিজের কাছে বেঁধে রাখা কোনো সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ হতে পারে না। তাই স্ত্রীর ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে তাদের বিয়ের সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে দুই পক্ষের সম্মতিক্রমে এবং পারিবারিকভাবে স্থানীয় একটি মন্দিরে হিন্দু শাস্ত্রীয় আচার ও রীতি অনুযায়ী ওই নারী ও তার পুরোনো প্রেমিকের বিবাহ সম্পন্ন করা হয়।

মন্দিরে অনুষ্ঠিত এই বিয়েতে বর ও কনে একে অপরকে মালা পরােন এবং পবিত্র অগ্নির চারদিকে সাত পাক ঘুরে চিরজীবনের মতো একত্রিত হন। একজন স্বামী কর্তৃক নিজের স্ত্রীর ভালোবাসার মূল্যায়ন করে এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনাটি শুধু মালিহাবাদেই নয়, বরং আশপাশের অঞ্চলেও বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রচলিত সামাজিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি বর্তমানে বহু মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়ার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page