বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

কোনো সংস্থার পূর্বাভাসে বিতর্ক চায় না সরকার

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সূচক নিয়ে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর দেওয়া প্রাক্কলন বা পূর্বাভাস নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্কে জড়াতে চায় না বর্তমান সরকার। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থা তাদের নিজস্ব পদ্ধতি ও হিসাবের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে এবং সরকার সেগুলোকে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের মুখোমুখি করতে নারাজ। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নিজেদের মতো করে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কাজের ফলাফলই সব মূল্যায়ন করবে বলে তিনি মনে করেন।

চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে ধরে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ তাদের প্রকাশিত বিভিন্ন আউটলুক প্রতিবেদনে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। আইএমএফের সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনৈতিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে যেতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকও প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে, যা নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

এই ধরনের ভিন্নমুখী প্রক্ষেপণের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে সরকার তার নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অবিচল রয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বাজেটে যেসব আর্থিক প্রক্ষেপণ ধরা হয়েছে, সঠিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার তা পূরণ করতে সক্ষম হবে। সময়ের ব্যবধানে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাজের স্বাধীনতাকে সম্মান জানিয়ে তিনি reiterate করেন যে তারা তাদের হিসাব প্রকাশ করেছে আর সরকার দেশের স্বার্থে নিজস্ব অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

সম্মানজনক এই সম্মেলনের ফাঁকে ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জ ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বলে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান যে বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অতীতের বিভিন্ন দায় একসঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এবং চ্যালেঞ্জগুলো অনুধাবন করতে পেরেছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। অর্থনীতিকে পুনরায় সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক নীতি ও কর্মসূচির প্রতি বিশ্বব্যাংক পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এবং যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত দশ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়া সংক্রান্ত গণমাধ্যমের খবরের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার করেছেন যে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা পাকাপোক্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ব্যাংককের এই বৈঠকে কোনো তাৎক্ষণিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি জানান যে আলোচনার বিষয়বস্তুগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নির্ধারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page