বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

দুর্গন্ধ যাচ্ছেই না, নিষ্ফল ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প

Reporter Name

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর যানজট নিরসন ও নগরবাসীর বিনোদনের জন্য তৈরি করা দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পানিদূষণ ও দুর্গন্ধের শিকার হয়ে আসছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘুরতে আসা হাজার হাজার মানুষ এই লেকের পাড়ে সময় কাটাতে আসেন। কিন্তু জলাশয়ের পানির উচ্চমাত্রার দুর্গন্ধের কারণে দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আনন্দ মাটি হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াটার ট্যাক্সিতে যাতায়াত কিংবা লেকের পাড়ে হাঁটার সময় নাকে রুমাল বা মাস্ক চেপে চলতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অথচ অপরূপ সৌন্দর্যের এই জনবহুল এলাকায় এমন পরিবেশ বজায় থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

এই জলরাশির দূষণ রোধ করতে বিগত সময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ২০১৮ সালে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা খরচ করে ‘হাতিরঝিল লেকের দূষিত পানি পরিশোধন’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। স্ট্রাক্টর নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সেখানে পরিশোধন যন্ত্রপাতি সচল রাখা হয়েছিল। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং বিভিন্ন স্থানে ত্রুটি ও লিকেজ দেখা দেওয়ায় একপর্যায়ে এই ব্যয়বহুল পরিশোধন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এত বড় বিনিয়োগ সত্ত্বেও লেকের পানির গুণগত মানে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসেনি।

এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী মো. মুজাফফর উদ্দিন জানিয়েছেন, ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ড্রেন এবং লাইন দিয়ে সরাসরি বর্জ্য এসে মিশছে হাতিরঝিলের পানিতে। বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ ডাইভারশন গেট খুলে দিতে হয়, যার ফলে ময়লা পানি লেকে ঢুকে পড়ে। তিনি আরও জানান, দূষণের এই মূল উৎসগুলো বন্ধ করা না গেলে পানি শোধনের যেকোনো উদ্যোগ কেবল সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে রাজউক বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়নে বন্ধ থাকা যন্ত্রপাতি মেরামত ও চালুর নতুন উদ্যোগ নিয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে তা সচল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে নগর-পরিকল্পনাবিদ আদিল মোহাম্মদ খান মনে করেন, সুনির্দিষ্ট উৎস থেকে পয়োবর্জ্য ও শিল্পকারখানার বর্জ্য লেকে পড়া বন্ধ না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা অসম্ভব। তাঁর মতে, আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের জরিমানা এবং যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল হাতিরঝিলকে রক্ষা করা সম্ভব। ঢাকা ওয়াসার নির্ধারিত প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে এই দৃষ্টিনন্দন জলাশয়ের দুর্গন্ধের বিড়ম্বনা থেকেই যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page