
শিক্ষা ডেস্ক: শহীদ আবরার ফাহাদের চতুর্থ শাহাদাতবার্ষিকী এবং দেশজুড়ে নিপীড়নবিরোধী দিবস পালনের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে এই স্মরণসভা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণ করা হলেও ছাত্রশিবিরের এই কর্মসূচি ক্যাম্পাসে বিশেষ আলোচনার জন্ম দেয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা তৈরি এবং অতীতে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া নানা নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্যানটিন চত্বরে একটি চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়, যেখানে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান এবং অতীতে ছাত্রাবাসগুলোতে চলা বিভিন্ন নিপীড়নের নানা চিত্র ও আলোকচিত্র স্থান পায়। এসব ছবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চলা নির্যাতনের বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়, যা দেখতে দর্শনার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। প্রদর্শনী শেষে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং আবরার ফাহাদ হত্যার সুষ্ঠু বিচারসহ শিক্ষাঙ্গনে সব ধরনের সন্ত্রাস ও নিপীড়নের স্থায়ী অবসানের দাবি জানান।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, আবরার ফাহাদ কেবল একটি নাম নয়, বরং তিনি গোটা জাতির বিবেক এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক অনন্য প্রতীক। ক্যাম্পাসে ভিন্নমতের কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানোর যে সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে চালু ছিল, তার বিরুদ্ধে আবরার নিজের জীবন দিয়ে এক ঐতিহাসিক বার্তা রেখে গেছেন। তারা আরও বলেন, শহীদ আবরারের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও মুক্তবুদ্ধিচর্চার ক্যাম্পাস, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে। ছাত্ররাজনীতির নামে কোনো ধরনের জিম্মি করার সংস্কৃতি যাতে ভবিষ্যতে আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। তারা মনে করেন, অতীতে ঘটে যাওয়া প্রতিটি অপরাধের স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। সার্বিকভাবে, একটি শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের এই স্মরণসভা ও চিত্র প্রদর্শনী কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।