শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
গাজীপুরে গার্মেন্টসে আগুন, ছাদে আটকা পড়েছে ৭০ জন শ্রমিক একজন বাংলাদেশির শরীরে জীবন্ত প্রাণী প্রবেশ নিয়ে বিরল চিকিৎসাগত অনুসন্ধান দত্তকের নামে ফেসবুকে শিশু কেনাবেচা, কীভাবে চলছে এই চক্র ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট ‘কুঠার’ দিয়ে প্রধান পাইলটকে আঘাত করেন: আরব আমিরাত কোনো আশা নেই, তবুও কেন মানুষ সম্পর্কে দিনের পর দিন থেকে যায় এনআইডি-পাসপোর্টের মতো অনলাইনে করতে হবে বিয়ের নিবন্ধন: আইনমন্ত্রী জার্মানিতে পড়ার স্বপ্ন যাঁদের জেনে নিন আবেদন, ভিসা ও খরচের খুঁটিনাটি এক উঠানে সকাল পর্যন্ত রাখা হয় চার খাটিয়া, পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন অভিষেক–তিলকের ঝড়ে পাকিস্তানকে হারাল ভারত, জিতল সোনা কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামবাহী লরিবহর

কোনো আশা নেই, তবুও কেন মানুষ সম্পর্কে দিনের পর দিন থেকে যায়

Reporter Name

একটি মৃতপ্রায় সম্পর্কে দিনের পর দিন টিকে থাকা অনেকের জন্যই এক অদ্ভুত মানসিক যন্ত্রণার নাম, যার উত্তর খোঁজা সবসময় সহজ নয়। এক ছাদের নিচে বসবাস করেও যখন পারস্পরিক দূরত্ব আকাশচুম্বী হয় এবং মানসিক বা শারীরিক উষ্ণতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়, তখনো মানুষ কেন সেই সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারে না—এই প্রশ্নটি বেশ জটিল। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতার ফল নয়, বরং এটি মানব মস্তিষ্কের জৈবিক প্রতিক্রিয়া, অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা এবং সামাজিক কাঠামোর এক গভীর জটিল মিথস্ক্রিয়া। অনেক সময় নির্যাতন বা অপমান সহ্য করেও মানুষ কেবল সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে কারণ তারা অতীতে পাওয়া ভালো সময়ের স্মৃতির ওপর ভরসা করে বেঁচে থাকে।

এই ধরনের আটকে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক কারণ হিসেবে কাজ করে ট্রমা বন্ডিং বা নির্যাতনমূলক বন্ধন। গবেষকদের মতে, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং নির্যাতনকারীর মধ্যকার এই সম্পর্কে প্রথমে অতিরিক্ত ভালোবাসা ও পরে নিষ্ঠুরতার একটি অন্তহীন চক্র তৈরি হয়, যা জুয়ার আসক্তির মতো মস্তিষ্কে ডোপামিনের অনিশ্চিত নিঃসরণ ঘটাতে বাধ্য করে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, এই টান কোনো নিষ্ক্রিয় প্রতিক্রিয়া নয়, বরং নির্যাতনকারীর এমন এক সুচিন্তিত কৌশল যেখানে ভুক্তভোগী আশার আলো দেখতে পেয়ে বারবার সেই ক্ষতিকর সম্পর্কেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এছাড়া সাংক কস্ট ফ্যালাসি বা ডুবন্ত খরচের ভ্রান্তির কারণে সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ও আবেগ বিনিয়োগ করার পর মানুষ তা ছেড়ে যেতে ভয় পায়, কারণ তাদের অবচেতন মনে কাজ করে যে এতদিনের সব ত্যাগ বৃথা চলে যাবে।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এই অদৃশ্য শিকলকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলে, যা বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও গবেষণায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। দেশ ও সংস্কৃতির গণ্ডি পেরিয়ে দেখা যায়, নারী নির্যাতন, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা, আইনি অনিশ্চয়তা এবং সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মানুষ বছরের পর বছর মুখ বুজে সহ্য করে যায়। অপরাধবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা প্রায়শই সামাজিক লজ্জা, কলঙ্ক এবং বিকল্প আশ্রয়ের অভাবের কারণে প্রতিবাদ করার সাহস হারিয়ে ফেলেন। এর পাশাপাশি আন্তঃপ্রজন্মগত ট্রমা বা পারিবারিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে বড় হওয়ার কারণে অনেকে এই অস্বাভাবিক পরিবেশকেই অবচেতনভাবে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে শুরু করেন।

বিশ্বব্যাপী অন্তরঙ্গ সঙ্গীর সহিংসতার চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ হলেও এই চক্র ভাঙার পথগুলো কিন্তু অসম্ভব নয়। ধনী কিংবা গরিব, সেলিব্রেটি কিংবা সাধারণ মানুষ—কেউই এই ব্ল্যাকমেইল, ভয় ও মানসিক ব্লকের আওতা থেকে পুরোপুরি মুক্ত নন। তবে এই জটিল শিকল ছিন্ন করতে হলে কেবল ব্যক্তিগত সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা, নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা, জোরালো আইনি সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার। পাশাপাশি সমাজ ও পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন না ঘটলে মানুষ ভালো সময়ের অন্তহীন মিথ্যে আশায় দিনের পর দিন এমন সম্পর্কেই বন্দি থেকে যাবে, যা একসময় তাদের সম্পূর্ণ নিঃশেষ করে দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page