
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রচারের জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেট এলাকায় সম্প্রতি বহিরাগতদের একটি দল সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। অনলাইনে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য অভিযুক্ত এক যুবককে ক্যাম্পাসের কাছাকাছি ডেকে এনেছিলেন শিক্ষার্থীরা। মূলত এই ঘটনার সূত্র ধরেই পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের পরিবেশ তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সজল নামের এক যুবক নিজেকে বিএল কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেন। ওই পোস্টের সত্যতা যাচাই করতে শিক্ষার্থীরা তাকে খাজা গেট এলাকায় হাজির হতে বলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় কিছু লোক রাজনৈতিক বা পেশাজীবী সংগঠনের প্রভাব দেখিয়ে হস্তক্ষেপে চেষ্টা চালায় এবং পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনই অভিযুক্ত যুবককে মারধর শুরু করলে শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন।
ক্যাম্পাসের মূল ফটকের ভেতরে প্রবেশ করানোর সময় স্থানীয় বহিরাগতরা জোরপূর্বক গেট ঠেলে ওই যুবককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা সাহসিকতার সঙ্গে তাকে পুনরায় ধরে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবকের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে বিভিন্ন মাদকসংক্রান্ত তথ্য ও সন্দেহজনক বিষয়বস্তু উদ্ধার করা হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানান। তবে এর পরপরই স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে বহিরাগতরা একত্রিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির নেতৃত্বে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসের সামনে এসে অতর্কিত ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ঘোষণা দিয়ে অতিরিক্ত লোক জড়ো করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। বহিরাগতদের এই আকস্মিক হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলাকারীদের চিহ্নিত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান যে উভয় পক্ষের ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।