শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

৯ হাজার সেনাসহ মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Reporter Name

মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপে অংশ হিসেবে দেশটির পক্ষ থেকে একটি নতুন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ এবং বিশেষ উভচর হামলা ইউনিট মোতায়েন করা হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই বহরে প্রায় নয় হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা যুক্ত রয়েছেন, যা ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরান ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সামরিক পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে তিনটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছিল মার্কিন নৌবাহিনী, যা দুই দশকের বেশি সময় পর প্রথম কোনো ঘটনা ছিল।

নতুন এই মোতায়েন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। এই নৌবহরগুলোতে সম্মিলিতভাবে সাত হাজারের বেশি নাবিক ও দুই হাজার মেরিন সেনা রয়েছেন। এছাড়া মাকিন আইল্যান্ড গ্রুপের সঙ্গে অতিরিক্ত দুটি উভচর অবতরণকারী জাহাজও যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত বাহিনী যুক্ত হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলে একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী সক্রিয় থাকবে। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন রণতরীগুলো আগে থেকেই অবস্থান করছে।

নতুন এই সামরিক বহরগুলো পুরোপুরি যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনার সংখ্যা বিশ হাজার ছাড়িয়ে যাবে এবং এর পাশাপাশি শত শত সামরিক যুদ্ধবিমানও মোতায়েন থাকবে। সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিয়োজিত থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন রণতরীটিকে এবার মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। মূলত পূর্বের একটি দীর্ঘ মেয়াদি মোতায়েনের কারণে ক্লান্ত নাবিকদের স্বস্তি দিতে এবং অন্য একটি জাহাজের স্থলাভিষিক্ত করতেই এই রদবদল করা হয়েছে। থিওডোর রুজভেল্ট রণতরীটি গন্তব্যে পৌঁছানোর পর জর্জ ওয়াশিংটন আবার জাপানের পার্শ্ববর্তী সমুদ্র অঞ্চলে ফিরে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর হুশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানের ওপর বোমা হামলা আরও জোরদার করার বিকল্পটি এখনো বিবেচনাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পক্ষ থেকে আসা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথাও নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো কিছু শর্তে তেহরান রাজি হলেও তাদের পুরো প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই সংঘাত আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র যাওয়া রোধ করার এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে এবং তা বরং নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশ্ববাসীর নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও রণতরী পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং এর বহুমুখী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page