সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
গোপনে আবুধাবি সফর নেতানিয়াহুর, আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি মামলা প্রস্তুতির নির্দেশ নেতানিয়াহুর রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে হলান্ডের নরওয়েকে হারাল পর্তুগাল উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণ: প্রকল্পজটে ৬১% কমেছে ঋণছাড় ২৬ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে ৫০ হাজার গাছের বনে পরিণত করলেন এক নারী জিয়াউল আহসানের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হতে পারে অক্টোবরে: প্রসিকিউটর মিজানুল নামফলকে নিজের নাম দেখে ফলক উন্মোচন করেননি হাসনাত আবদুল্লাহ, আলোচনা-সমালোচনা ট্রাম্প-শি বৈঠকে সমঝোতা না হলেও যুক্তরাষ্ট্রে আসবে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি: বিশ্লেষকরা দোয়া কি শুধু আরবিতেই করতে হবে ইসরাইলি সরকারের মদদে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নজিরবিহীন সহিংসতা: ফ্রান্স

২৬ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে ৫০ হাজার গাছের বনে পরিণত করলেন এক নারী

Reporter Name

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রোনাল্ড সাকলস্কির দেওয়া সামান্য আর্থিক সহায়তায় চীনের এক নারী কৃষক ২৬ বছরের দীর্ঘ পরিশ্রমে মরুভূমিকে বিশাল সবুজ বনে রূপান্তর করেছেন। ১৯৯৯ সালে চীনের হেনান প্রদেশে ইংরেজি শেখানোর সময় সাকলস্কি টেলিভিশনে ইননার মঙ্গোলিয়ার মু উস মরুভূমিতে ইয়িন ইউঝেন নামের ওই নারীর বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ দেখতে পান। মূলত নতুন বিবাহিত জীবনে মরুভূমির চরম একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতেই ইয়িন নিজ উদ্যোগে গাছ লাগানোর কঠিন কাজটি শুরু করেছিলেন।

সেই সময় ইয়িনের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাহসিকতার গল্পে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে সাকলস্কি প্রায় ৫ হাজার ডলার সংগ্রহ করে তাকে পাঠান, যা ছিল ওই নারীর তৎকালীন বার্ষিক আয়ের কয়েক গুণেরও বেশি। ২০০০ সালে এই দুই পরোপকারী মানুষের প্রথম সাক্ষাতের সময় ইয়িন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি ও তার পরিবার পরম যত্নে এই গাছগুলো লালন-পালন করবেন। সম্প্রতি ৬৯ বছর বয়সী সাকলস্কি ২৬ বছর দীর্ঘ ব্যবধানের পর প্রথমবারের মতো সশরীরে সেই এলাকা পরিদর্শনে যান।

সেখানে গিয়ে আমেরিকান এই শিক্ষক দেখতে পান যে একসময়ের রুক্ষ ও বিস্তীর্ণ মরুভূমি প্রায় ৫০ হাজার পূর্ণবয়স্ক গাছের এক সমৃদ্ধ বনে পরিণত হয়েছে, যার অনেকগুলো গাছের উচ্চতা এখন ৩০ ফুটেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। নিজের চোখে মরুভূমির এই রূপান্তর দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি একে জীবনের অন্যতম বড় বিস্ময় বলে অভিহিত করেন। এর আগে তিনি ছবি ও বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে বনের কথা জানলেও স্বচক্ষে দেখার পর এই অভাবনীয় পরিবর্তনের আসল সত্যতা অনুধাবন করতে পেরেছেন।

চলতি বছরের শুরুতে ইয়িন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ প্রচারণা চালিয়ে দীর্ঘদিনের পরিচিত সাকলস্কির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর ১০ দিনের সফরে চীনে গিয়ে সাকলস্কি বনের মধ্যে ইয়িনের সঙ্গে আবেগঘন পুনর্মিলনে অংশ নেন এবং তারা সেখানে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি বন্ধুত্বের গাছ রোপণ করেন। সফরকালে ইয়িন তাকে একটি বিশেষ ক্রস-স্টিচ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি সাকলস্কি নিজের স্মৃতির জন্য ওই এলাকার এক বয়াম বালু সঙ্গে নিয়ে যান।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার জনগণের বন্ধুত্বের এই অনন্য উদাহরণটি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে দেশটির সরকারি মহল। চীনের শীর্ষ নেতৃত্বও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই দুই ব্যক্তির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং দুই দেশের সাধারণ মানুষের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইয়িন ইউঝেন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানান যে তিনি নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং তাদের এই বন্ধুত্বের গাছ আগামী ২৬ বছর পরও একইভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page