
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এবং তাদের জমি জবরদখলের মতো ঘটনাগুলো থামানোর বদলে ইসরাইলি সরকার এগুলোর প্রতি নীরব সমর্থন ও প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ফ্রান্স। সম্প্রতি ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বর্তমানে এই অঞ্চলে উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের নিপীড়ন এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর যা কিছু চালানো হচ্ছে, তার পেছনে ইসরাইল প্রশাসনের এক ধরনের অপরাধমূলক ও লজ্জাজনক প্রশ্রয় রয়েছে।
এর আগে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন যে, পশ্চিম তীরে প্রতিদিন নিয়ম করে আইন ও অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে চলেছে এবং এসব অপরাধ কাদের নামে চালানো হচ্ছে তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া তিনি দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছিলেন যে, হামাস গোষ্ঠী পশ্চিম তীরে কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না। ম্যাক্রোঁর এমন বক্তব্যের পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয় এবং ফরাসি নেতার মন্তব্যকে ‘অহংকারী অযৌক্তিকতা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাল্টা বিবৃতিতে দাবি করা হয় যে, হামাসের সশস্ত্র সদস্যরা নিয়মিতভাবে পশ্চিম তীরে বসবাসরত ইসরাইলি নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে। তবে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন যে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে ভুলভাবে বা প্রক্ষাপটের বাইরে নিয়ে কোনো ধরনের অপব্যাখ্যা করা উচিত নয়। তিনি যুক্তি দেখান যে, হামাসকে দুর্বল করার অজুহাত দেখিয়ে ইসরাইল সরকার পশ্চিম তীরের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে যেভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে বা প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা যৌক্তিক হতে পারে না। পশ্চিম তীরে হামাসের তৎপরতা রয়েছে কি না এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থেকে তিনি মূলত ইসরাইলি নীতির তীব্র সমালোচনাতেই জোর দেন।
এদিকে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে শুধু মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়েই কথা বলেননি, বরং ইউরোপীয় ভূখণ্ডের নিরাপত্তাগত ঝুঁকি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান যে, ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বৈরিতা এবং গোপন তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রুশ হুমকির বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সাইবার হামলা, সুপরিকল্পিত অপপ্রচার এবং বিভিন্ন অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। বারো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন যে, রাশিয়ার তরফ থেকে ড্রোন হামলার মাধ্যমে ফ্রান্সের কৌশলগত স্থাপনা যেমন বিমানবন্দর কিংবা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও আঘাত আসার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না এবং দীর্ঘ সময় ধরে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফরাসি প্রশাসন।