মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
চুরির অপবাদে পিঠের ওপর ইটের ভার, মারাই গেলেন যুবক সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিশ্চিত হলো মেসিহীন আর্জেন্টিনার পরবর্তী সূচি! কবে খেলা জেনে নিন মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র কারাগারেই জন্ম-বেড়ে ওঠা, ৭ বছর পর মুক্ত বাতাসে শিশু মোবাশ্বেরা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন তিনজন চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৬ স্ত্রীর মৃত্যুর শোক না কাটতেই পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ছেলের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার পর স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বৈদ্যুতিক ট্রেন ও গাবতলী-দাশেরকান্দি মেট্রোসহ একনেকে উঠছে ১৬ প্রকল্প

কারাগারেই জন্ম-বেড়ে ওঠা, ৭ বছর পর মুক্ত বাতাসে শিশু মোবাশ্বেরা

Reporter Name

আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আসামি কামরুন্নাহার মনি সম্প্রতি গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় তার কোল আলো করে জন্ম নেওয়া সাত বছর বয়সী কন্যাসন্তান মোবাশ্বেরাও তার সঙ্গে মুক্ত বাতাসে বেরিয়ে এসেছে। ২০১৯ সালে গ্রেফতারের সময় তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। জন্মের পর থেকে দীর্ঘ সাতটি বছর কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যেই কেটেছে শিশু মোবাশ্বেরার শৈশব ও বেড়ে ওঠার দিনগুলো।

মঙ্গলবার দুপুরে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফটকের বাইরে অপেক্ষা করা স্বজনরা ফুল দিয়ে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মায়ের সঙ্গে একটি শিশুর কারাগার থেকে দীর্ঘ সাত বছর পর মুক্ত হওয়ার এই দৃশ্য উপস্থিত সকলের মনে গভীর দাগ কাটে এবং আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। নুসরাত হত্যা মামলায় একই দিনে কামরুন্নাহার মনির পাশাপাশি খালাসপ্রাপ্ত আরও সাতজন বন্দিও কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেছেন, যাদের মধ্যে অন্য বন্দিরা কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে ছাড়া পান।

কারাগারের বাইরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কামরুন্নাহার মনি তার কারাবাসের দিনগুলো এবং সন্তানের লালন-পালনের লড়াইয়ের কথা আবেগভরে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে কারাগারের কঠিন পরিবেশের মধ্যেও তিনি মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন এবং তাকে দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠদানসহ কোরআনের একটি পারা মুখস্থ করিয়েছেন। সীমিত সম্পদের মধ্যে নিজের একটি জামা কেটে মেয়ের জন্য স্কুলব্যাগ বানিয়ে দিয়েছিলেন এবং কারাগারের ভেতরেই তাকে স্কুলের নিয়মকানুন শিখিয়েছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে হাজার কষ্টের মাঝেও মায়ের সান্নিধ্যে থাকায় তার সন্তান নিরাপদ ছিল, কারণ মায়ের মতো যত্ন আর কেউ নিতে পারে না।

এদিকে ছোট্ট মোবাশ্বেরার দীর্ঘ কারাগারবাস ও তার বেড়ে ওঠার পরিবেশের বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মোছা. অলিভা শারমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবুও মায়ের সঙ্গে একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন ব্যতিক্রমী ও দীর্ঘ কারাবাস এবং পরবর্তী মুক্তি জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের রায়ে খালাস পেয়ে মায়ের হাত ধরে দীর্ঘ বন্দিদশা থেকে শিশুটির এই নতুন জীবনের সূচনা এক ভিন্ন মাত্রার মানবিক গল্পের জন্ম দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page