
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিমানটিতে থাকা এক কর্মকর্তা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। যুদ্ধবিমানটি আক্রান্ত হওয়ার পর নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হলেও মাটিতে নামার সময় তার প্যারাসুট সঠিকভাবে কাজ করেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই তীব্র গতিতে নিচে আছড়ে পড়েন তিনি এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত পান। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই কর্মকর্তার পুরো নাম প্রকাশ করা না হলেও তাকে ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’ নামে শনাক্ত করা হয়েছে।
মাটিতে পড়ার পর ব্রাভোর পিঠ, হাত, কাঁধ এবং গোড়ালিতে গুরুতর জখম হয়। তা সত্ত্বেও তিনি চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে প্রায় সাত হাজার ফুট উঁচু একটি পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেন। সঙ্গে থাকা একটি পিস্তল, যোগাযোগের যন্ত্র ও ট্র্যাকিং বীকনের সাহায্যে তিনি মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যান। পাহাড়ে দীর্ঘ প্রায় ৫০ ঘণ্টা মারাত্মক আহত অবস্থায় লুকিয়ে কাটিয়েছিলেন তিনি। তার মতে, প্যারাসুট অকার্যকর হয়ে যাওয়ার সেই মুহূর্তটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।
তার সঙ্গে একই বিমানে থাকা অপর পাইলট ‘আলফা’ কিছুটা দূরে অবতরণ করলেও তিনি সামান্য আহত হন এবং ঘটনার দিনই তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে ব্রাভোর অবস্থান দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় তাকে খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর পেন্টাগনে বার্তা পাঠাতে সক্ষম হন ব্রাভো এবং সিআইএর উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তার সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। মার্কিন বিশেষ বাহিনীর নিবেদিতপ্রাণ উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানে অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর উদ্ধারকারী দল ‘প্যারারেস্কিউ’ বা পিজেসের সদস্যরা শেষ পর্যন্ত ওই পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিওতে এই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের চিত্র ফুটে উঠেছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, এই জটিল উদ্ধার অভিযানে ৯০ জনের বেশি বিশেষ বাহিনীর সদস্য এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। মরুভূমির অস্থায়ী রানওয়ে থেকে পাঠানো হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ব্রাভোকে অবশেষে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।