শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

ঘর বাঁচলে জীবন বাঁচে, দারিদ্র্য কমে, মর্যাদাও বাড়ে

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে দারিদ্র্যের প্রধান অন্তরায় হলো একটি নিরাপদ ঠিকানার অভাব। বারবার বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা নদীভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে গরিব মানুষগুলো নতুন করে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে এবং তাদের সামান্য সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যায়। এই দীর্ঘমেয়াদী দারিদ্র্যের চক্র থেকে মানুষকে বের করে আনতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন বা পিকেএসএফ বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে বিশেষ আবাসন ঋণ ও জলবায়ু সহনশীল বসতি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণত পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া ছোট অঙ্কের ঋণ দিতে চায় না, যে কারণে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে দুর্বল ও অসমাপ্ত ঘর তোলে। এই শূন্যতা পূরণ করতেই পিকেএসএফ দীর্ঘমেয়াদী, কম সুদযুক্ত এবং জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা প্রদান করছে।

বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়ित প্রকল্পের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার পর পিকেএসএফ নিজস্ব তহবিলে দেশজুড়ে আবাসন ঋণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করেছে। এর ফলে হাজার হাজার পরিবার অত্যন্ত উপকৃত হয়েছে এবং তাদের পুরোনো ঘর মেরামত কিংবা নতুন ঘর নির্মাণের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এই ঋণ পাওয়ার মাধ্যমে প্রান্তিক পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে, শিশুদের পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার সুবাদে রোগবালাই কমেছে। এছাড়া নিরাপদ ও মজবুত ঘর গরিব মানুষের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি তাদের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সাধারণ ঘরের পাশাপাশি বিশেষ ধরনের সহনশীল বসতি স্থাপন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড় এবং উত্তরাঞ্চলে বন্যা ও নদীভাঙনের কথা মাথায় রেখে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের সহায়তায় বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় উঁচু ভিটা নির্মাণ, শক্ত কাঠামোর ঘর তৈরি, সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করছে। পাশাপাশি, এসব বসতির আশপাশে ঝড়-প্রতিরোধী গাছ লাগানোর পাশাপাশি গবাদিপশু পালন এবং লবণসহিষ্ণু সবজি চাষের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোর আয়ের নতুন উৎস তৈরি হয়েছে।

আগামী দিনগুলোতে এই কার্যক্রমকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে পিকেএসএফ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরও হাজার হাজার পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদী ও সহজ শর্তে আবাসন ঋণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার নারী ও স্বামী-স্ত্রী যৌথ মালিকানাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে নির্মাণসামগ্রীর ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষের সমন্বিত বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। একটি নিরাপদ ও টেকসই ঘর কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করে না, বরং এটি একটি পরিবারকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সমাজে মাথা তুলে দাঁড়াতে সহায়তা করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page