
জাতীয় ডেস্ক: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠি গ্রামের চরম আর্থিক সংকট ও নানা শারীরিক জটিলতায় জর্জরিত একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সম্প্রতি ওই পরিবারের একাধিক সদস্যের গুরুতর অসুস্থতা এবং মানবেতর জীবনযাপনের খবর পেয়ে তিনি নিজে তাদের বাড়িতে যান এবং খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই পরিবারটিকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জোরালো আশ্বাস দেন। সংসদ সদস্যের এমন মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করে তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বামনিকাঠি গ্রামের বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব ইউসুফ হাওলাদার ও তাঁর স্ত্রী ফুলচান বেগম দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। এই দম্পতির বড় ছেলে নুরুল ইসলাম এবং বড় মেয়ে রাসেদা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত জটিলতায় ভুগছেন। এছাড়া তাদের ছোট ছেলে সবুজও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের প্রায় সবাই গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাদের নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ ক্রয় এবং দৈনন্দিন খাবার জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সন্তানদের মধ্যে কেবল মেজো ছেলে জব্বার ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে সামান্য কিছু উপার্জন করলেও তা দিয়ে এতগুলো মানুষের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালানো এক প্রকার দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
অসহায় এই পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে সমাজ পরিচালিত হলে দেশের একটি মানুষও অবহেলিত থাকবে না। তিনি আরও বলেন, বাউফল উপজেলার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে মূল্যায়ন করা জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব। নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই তিনি উপজেলার প্রতিটি অবহেলিত মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে চান এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবেন।
সমাজের বৈষম্য দূর করতে এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে তার দল কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দলমত, ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগোষ্ঠীর ভেদাভেদ ভুলে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়েই ক্ষান্ত হওয়া হয়নি, বরং ওই পরিবারটিকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তুলতে স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জনপ্রতিনিধিদের এমন উদার ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ সমাজের দুস্থ মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।