
লাইফস্টাইল ডেস্ক: পেশাগত জীবন এবং পারিবারিক পরিমণ্ডলে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং নিজেদের মধ্যে মেলবন্ধন দৃঢ় করতে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আধুনিক জীবনযাত্রার নানা জটিলতার মাঝে অনেকেই নিজের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কর্মক্ষেত্র এবং ঘরের সম্পর্কে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মনের এই বিশেষ শক্তি অর্জন করা গেলে জীবনের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়ে আলোচনার সময় বিশিষ্টজনরা সবসময় আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। শায়েখুজ্জামানের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা মনে করেন, যেকোনো সফল নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে রাখা এবং আবেগের বহিঃপ্রকাশ সঠিক মাত্রায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একজন প্রকৃত নেতার কাজ কেবল নিজের অনুসারী তৈরি করা নয়, বরং আগামী দিনের জন্য নতুন নেতৃত্ব তৈরি করাও তার অন্যতম মূল দায়িত্ব।
কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হলে অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা বা সমবেদনা থাকা ভীষণ প্রয়োজন। আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা মানুষকে নিজের রাগ, হতাশা ও উদ্বেগের কারণগুলো চিহ্নিত করতে এবং তা গঠনমূলকভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। এর ফলে কর্মপরিবেশ যেমন আনন্দদায়ক হয়, তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন করাও অনেক সহজ হয়ে ওঠে।
পরিবারের সদস্যদের মাঝে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতেও এই মানসিক গুণের কোনো বিকল্প নেই। কাছের মানুষের চাহিদা ও না বলা কথাগুলো অনুধাবন করতে পারলে পারিবারিক বিরোধ সহজেই এড়ানো যায়। তাই সার্বিক জীবনে মানসিক শান্তি ও সাফল্য অর্জনের জন্য আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার চর্চা বাড়াতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।