শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :

খাদ্যনিরাপত্তায় নতুন পথ দেখাচ্ছে ইউএইচটি প্রযুক্তি

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেবল খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করাই যথেষ্ট নয়, বরং উৎপাদিত খাবার নিরাপদ ও পুষ্টিকর অবস্থায় ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো এবং অপচয় রোধ করাও সমানভাবে জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহ কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন অপরিহার্য হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবছর পালিত হওয়া বিশ্ব খাদ্য দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়টির মূল বার্তা হলো আধুনিক উদ্ভাবনের মাধ্যমেই আগামী দিনের টেকসই ও পুষ্টিকর খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

আমাদের দেশে সুষম পুষ্টির একটি অন্যতম প্রধান উৎস হলো তরল দুধ, যা প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে সমৃদ্ধ হলেও অত্যন্ত দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। খামার থেকে সংগৃহীত দুধের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করা, নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বিষয়। সামান্য অবহেলার কারণে এই পুষ্টিকর পানীয়ের গুণগত মান নষ্ট হতে পারে, তাই উৎপাদন পর্যায় থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

দুধের পুষ্টিমান ও গুণগত মান দীর্ঘসময় অক্ষুণ্ণ রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে, যার মধ্যে আলট্রা-হাই টেম্পারেচার বা ইউএইচটি প্রক্রিয়াটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে কাঁচা দুধকে খুব অল্প সময়ের জন্য অন্তত ১৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করার পর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঠান্ডা করা হয়। এর ফলে দুধের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ছাড়াই পণ্যটি দীর্ঘকাল সংরক্ষণের উপযোগী হয়ে ওঠে।

ইউএইচটি প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত এই দুধ সাধারণত কোনো ধরনের রেফ্রিজারেশন বা হিমায়ন ছাড়াই স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়, যা এর পরিবহন ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করে তোলে। দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করা যাওয়ার ফলে একদিকে যেমন অবিক্রীত দুধ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়, অন্যদিকে সামগ্রিকভাবে খাদ্য অপচয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। ফলস্বরূপ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও নিরাপদ খাদ্যনিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রযুক্তির প্রসার অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page