শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
দুর্গাপূজায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানালেন ড. ইউনূস দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার, অর্ধেকের যোগ্যতা পুরোপুরি কাজে লাগছে না বাংলাদেশের মতো সরকার পতনে বিজেপি কেন সতর্ক করছে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখো, বিশ্বজুড়ে… | স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬ | পর্ব-০৩ ভোলায় গ্যাস সংযোগসহ ৫ দাবিতে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি পানির ট্যাংকের ওপর লক্ষ্মী প্যাঁচার সংসার—নিউইয়র্কে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ কেন হারিয়ে যাচ্ছে নকশা আঁকা টমটম গাড়ি শাঁখামুটি, গন্ধগোকুলের বিশাল অবয়ব দর্শনার্থীদের কী মনে করিয়ে দিচ্ছে বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি বন্ধ না হলে রেমিট্যান্স শাটডাউনের হুমকি থ্রাস্টার প্রযুক্তির উড়ন্ত গাড়ি আনছেন ইলন মাস্ক

কেন হারিয়ে যাচ্ছে নকশা আঁকা টমটম গাড়ি

Reporter Name

ফিচার ডেস্ক: আমাদের গ্রামীণ লোকশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন ছিল রঙিন নকশা করা কাঠের তৈরি টমটম গাড়ি। একসময়ে দেশের বিভিন্ন মেলা বা উৎসবে শিশুদের বিনোদনের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই ঐতিহ্যবাহী খেলনাটি। কারুশিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি এসব গাড়িতে ফুটিয়ে তোলা হতো নানা আকর্ষণীয় আল্পনা ও রঙিন মোটিফ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক প্লাস্টিক ও ইলেকট্রনিক খেলনার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে এই শৈল্পিক নিদর্শনটি।

গ্রামীণ ঐতিহ্যের টমটম গাড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত কারুশিল্পীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পেশাকে টিকিয়ে রেখেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কারিগররা পূজা বা মেলা উপলক্ষে নির্দিষ্ট অঞ্চলে এসে এসব পণ্য বিক্রি করতেন। লেখক তাঁর স্মৃতিকথায় বগুড়া থেকে আসা কারুশিল্পী পরিবারগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। নারী-পুরুষ মিলে যৌথভাবে এই লোকশিল্প টিকিয়ে রাখতে যুগ যুগ ধরে তারা কঠোর পরিশ্রম করে আসছেন।

তবে আধুনিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদনের তুলনায় লাভ কমে যাওয়ায় অনেক কারিগরই এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, নতুন প্রজন্মের শিশুদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর খেলনার প্রতি ঝোঁক বাড়ায় ঐতিহ্যবাহী কাঠের টমটমের চাহিদা কমছে। ফলে পসরা সাজিয়ে বসা এসব কুটিরশিল্পীর জীবিকাপার্জনের পথও দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এই অমূল্য উপাদানটি টিকিয়ে রাখতে কোনো সুনির্দিষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

আমাদের লোক সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি। কারুশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা এবং উৎপাদিত পণ্যের আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এই শিল্পকে রক্ষা করা সম্ভব। অন্যথায়, আমাদের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এই রঙিন টমটম গাড়িগুলো অচিরেই কেবল ইতিহাসের পাতায় বা জাদুঘরে স্থান পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page