
লাইফস্টাইল ডেস্ক: আসন্ন পূজার ছুটিতে প্রাত্যহিক রুটিন এবং সকালের অভ্যাসে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনার উপযুক্ত সময় এটি। ঘুম থেকে ওঠার পরের প্রথম কয়েক ঘণ্টা একজন মানুষের পুরো দিনের কর্মক্ষমতা, মানসিক স্থিতি এবং শারীরিক সুস্থতার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। একটি সুন্দর, গোছানো এবং সফল দিন নিশ্চিত করতে সকালে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর কোন কাজগুলো করা দরকার আর কোনগুলো থেকে দূরে থাকা উচিত, তা জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জীবনযাপন বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট্ট কিছু নিয়ম মেনে চললে পুরো দিনটিই প্রাণবন্ত ও স্বচ্ছন্দময় করে তোলা সম্ভব হয়।
ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর সবার আগে শরীরকে হাইড্রেট করা বা পানির চাহিদা মেটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। সকালবেলা খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি বা সাধারণ তাপমাত্রার পানি পান করলে শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম সক্রিয় হয় এবং ভেতর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে যায়। এছাড়া ঘুম থেকে ওঠার পর নিজের বিছানা সুন্দর করে গুছিয়ে ফেলা দারুণ একটি মনস্তাত্ত্বিক ইতিবাচক অভ্যাস। দিনের শুরুতেই এই ছোট কাজটি সম্পন্ন করার ফলে একধরনের মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায় এবং চারপাশ গোছানো থাকায় মনও শান্ত ও প্রফুল্ল থাকে।
শরীরের জড়তা কাটাতে এবং দিনটিকে চনমনে করে তুলতে সকালের সময়টা নানা উপায়ে কাজে লাগাতে পারেন। ঘরের জানালা পুরোপুরি খুলে দিন কিংবা কিছুক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভোরের প্রাকৃতিক আলো ও নির্মল বাতাস উপভোগ করুন, যা শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে সজাগ হতে সাহায্য করে। শরীরকে সচল রাখতে অন্তত দশ থেকে পনেরো মিনিট হালকা স্ট্রেচিং, ইয়োগা কিংবা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন, এতে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। তাড়াহুড়ো না করে পাঁচ থেকে দশ মিনিট নিরিবিলি বসে বুক ভরে শ্বাস নিন এবং সারাদিনের প্রয়োজনীয় কাজের একটি সুন্দর তালিকা তৈরি করে নিন।
তবে দিনের শুরুতে কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকা উচিত, যা আমাদের মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি করতে পারে। ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই স্মার্টফোন হাতে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা ই-মেইল চেক করার অভ্যাস মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে এবং মনোযোগ কমিয়ে দেয়। এছাড়া অ্যালার্মের স্নুজ বাটন চেপে বারবার ঘুমানোর চেষ্টা করা কিংবা খালি পেটে কড়া চা বা কফি পান করার অভ্যাস শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ঝট করে বিছানা ছেড়ে না উঠে শরীরকে সময় দিন এবং সকালের প্রথম ঘণ্টাটি কোনো ধরনের নেতিবাচক চিন্তা বা অপ্রয়োজনীয় আলোচনা থেকে দূরে রাখুন।