বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনূসকে ফ্যাসিস্টদের হেনস্তা ২,৪৮০ পদে নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু কবে চীনে সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসন, কত দিন চলবে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ? প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরও আগের নিয়োগ কমিটি বহাল রেখে পরীক্ষা কলম্বাসের ৫০০ বছর আগে আমেরিকা পৌঁছেছিল যে ভাইকিংরা সংস্কারেও দুর্ভোগ কাটছে না ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে দেশের সম্পদ শিল্প বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে: কর্মশালায় বক্তারা এনসিপিতে ‘সুপার সিক্স’ নামে কোনো ফোরাম নেই: সারোয়ার তুষার প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে আনন্দমেলার পিকনিক, দেশি খাবার ও আড্ডায় মিললেন প্রবাসীরা

নগর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পে ‘বিশেষজ্ঞ’ সাবেক আমলারা

Reporter Name

ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট’ বা আইইউপিএইচপিএসপি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। এই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকরণ থেকে শুরু করে যোগ্যতার মানদণ্ডে নানা গরমিল পাওয়া গেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তার প্রত্যেকের মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা করে। অথচ অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বা ডিপিপিতে উল্লিখিত শর্তের সঙ্গে তাদের বেশিরভাগের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই মিলছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকল্পটিতে নিয়োগ পাওয়া চারজন বিশেষজ্ঞের মধ্যে তিনজনই সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং একজন হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। এই চারজনের মধ্যে মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন স্পেশালিস্ট পদে স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম, এনভায়রনমেন্ট স্পেশালিস্ট পদে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব বিল্লাল হোসেন এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট পদে একই মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মহঃ শের আলী দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট পদে নিয়োগ পেয়েছেন অতীতে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করা এনামুল হক। নিয়োগপ্রাপ্ত এই চারজনের নথিপত্র ও সার্টিফিকেট যাচাই করে দেখা গেছে, তাদের অন্তত তিনজনেরই পদ অনুসারে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি কিংবা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের অভিজ্ঞতা নেই।

অভিযোগ রয়েছে যে, প্রকল্পটির জন্য তৈরি করা টার্মস অব রেফারেন্স বা টিওআর নিজেদের সুবিধামতো পরিবর্তন করেছেন এই কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই চারজনের মধ্যে অন্তত তিনজন খোদ টিওআর তৈরিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং নিজেদের তৈরি করা শিথিল যোগ্যতার মাপকাঠির আলোকেই তারা চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পাওয়ার অনেক আগেই তারা প্রকল্পের কার্যালয়ে বসে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন এবং নিয়োগ সংক্রান্ত নানা নথিপত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে, এই প্রকল্পে বড় অংকের আউটসোর্সিং নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে কোনো ধরনের কার্যকারিতা ছাড়াই মশা নিয়ন্ত্রণ এবং অস্তিত্বহীন বিশেষায়িত ডেঙ্গু গবেষণাগারের নামে শতাধিক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, মনিটরিং স্পেশালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আমিনুল ইসলাম হিসাববিজ্ঞানে পড়াশোনা করলেও তার মনিটরিং ও ইভ্যালুয়েশনের কাজের কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। একইভাবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ পদে নিয়োগ পাওয়া সাবেক আমলারাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেননি। এছাড়া কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ পদে নিয়োগ পাওয়া এনামুল হকের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকার তথ্য মিলেছে, যিনি আবার পরবর্তীতে প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞের অতিরিক্ত দায়িত্বও পেয়েছেন। এই অনিয়ম ও নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সদুত্তর এড়িয়ে যান, যা পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের স্বার্থের সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page