মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষায় বিশেষ আদালত গঠনের কথা ভাবছে সরকার তরুণ ও পেশাজীবীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া আহ্বান করছে বিদ্যুৎ বিভাগ দুর্গাপূজায় নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধসহ ১৬ নির্দেশনা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ডেসকোর ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২% ও মূল্যস্ফীতি ১০.৯%, আইএমএফের পূর্বাভাস বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমাল আইএমএফ, মূলে জ্বালানি ও ব্যাংক খাতে সংকট জনতা ব্যাংকের ইউএই কার্যক্রম বাঁচাতে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা দেবে সরকার ২০ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য, মধ্য রাতে ডাকা হলো অ্যাম্বুলেন্স চুয়েটে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা, কার্যালয়ের সামনে রাতভর পাহারা বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর সৌদিতে কর্মসংস্থানে নতুন ধাক্কা

পাটে শুল্কের খড়্গ বসিয়ে ঢাকার কাছে ফলে ছাড় চায় ভারত

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশি পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বাণিজ্য-প্রতিকারমূলক শুল্ক আরোপ করে আসছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। সম্প্রতি দেশটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক বসানোর পাশাপাশি নতুন করে কাউন্টারভেইলিং ডিউটি এবং পিইটি ফিল্মের ওপরও শুল্কের সুপারিশ করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবিত শুল্ক পুরোপুরি কার্যকর হলে রপ্তানি বাণিজ্যে অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা টনপ্রতি ৫৮৫ ডলারে গিয়ে ঠেকবে। অথচ এমন এক বৈরী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বাজারে কমলা, আম, কলা, মাল্টাসহ বিভিন্ন ভারতীয় ফলের আমদানি শুল্ক কমানো বা পুরোপুরি প্রত্যাহারের জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এই দ্বিমুখী বাণিজ্যিক নীতির তথ্য জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, সম্প্রতি ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, যেখানে বাংলাদেশি বাজারে ফলের শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থ ও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চিঠিটি পর্যালোচনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। ভারত মূলত কমলা, কিন্নো, আম, খেজুর, কলা ও মাল্টাসহ বিভিন্ন তাজা এবং প্রক্রিয়াজাত ফল আমদানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের বাজারে এর সামগ্রিক নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতীয় ফলের ওপর শুল্ক হ্রাসের যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে দেশের স্থানীয় ফল উৎপাদক, আমদানিকারক, সাধারণ ভোক্তা এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপর এর সম্ভাব্য পরিণতি গভীরভাব খতিয়ে দেখতে হবে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এমএ রাজ্জাক এ প্রসঙ্গে জানান যে, ভারতের পক্ষ থেকে পাটপণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার কথা থাকলেও যথাযথ তথ্যের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে ফলের শুল্ক হ্রাসের বিষয়টিও পারস্পরিক আলোচনার টেবিলে সুরাহা হওয়া বাঞ্ছনীয়। ইতিমধ্যে গত অক্টোবর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাণিজ্য ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠকে ঢাকা এলডিসি উত্তরণের পরও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বজায় রাখা এবং পাটপণ্যের ওপর থেকে সব ধরনের অশুল্ক বাধা ও শুল্ক প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে দেশের ফলের বাজারের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর, যেখানে আপেল, কমলা, আঙুর ও খেজুরের চাহিদার প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করে মেটাতে হয়। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফল আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কসহ মোট করের পরিমাণ প্রায় ৯৬ থেকে ১২২ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। উচ্চ করহার ও সরবরাহ শৃঙ্খলে জটিলতার কারণে এমনিতেই ফলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে ফল আমদানিও আগের তুলনায় নাটকীয়ভাবে কমে গেছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এমন বাস্তবতায় ভারতীয় ফলের শুল্ক কমানোর আবেদন আমলে নেওয়ার আগে সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page