
খেলা ডেস্ক: বল ও ব্যাটের তীব্র লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়াম, যেখানে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই এক ব্যবধানে এগিয়ে গেল মেন ইন ব্লুরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় দল নির্ধারিত কুড়ি ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে দুইশ তেইশ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবিয়ানরা নির্ধারিত কুড়ি ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে দুইশ নয় রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা ভারতীয় ওপেনারদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মুখে ভুল প্রমাণিত হয়। দলের হয়ে মাত্র ত্রিশ বলে ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কার সাহায্যে এক বিধ্বংসী উনসত্তার রানের ইনিংস খেলেন অভিষেক শর্মা। এছাড়া ইশান কিষান আঠারো বলে সাঁইত্রিশ এবং তিলক ভার্মা ষোলো বলে আঠারো রান করে দলের সংগ্রহকে মজবুত করেন। শেষদিকে প্রিন্স যাদব ও অক্ষর প্যাটেলের ছোট অথচ কার্যকরী ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে ভারত বড় পুঁজি নিশ্চিত করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং লাইনআপে শামার স্প্রিংগার, শামার জোসেফ এবং রোস্টন চেজ প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট শিকার করে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কিছুটা থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট চালাতে শুরু করে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। কামিল পুরান সাতাশ বলে বাহাত্তর এবং শিমরন হেটমায়ার ছাব্বিশ বলে তেতাল্লিশ রান করে দলের ইনিংসের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন। এছাড়া শেরফানে রাদারফোর্ড ও শেষদিকে শামার স্প্রিংগারের ঝড়ো ইনিংস সত্ত্বেও জয়ের বন্দর ছোঁয়া হয়নি তাদের।
ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে সফল ছিলেন আর্শদীপ সিং, যিনি প্রতিপক্ষের তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান। এছাড়া নামান ধীর দুটি এবং অক্ষর প্যাটেল ও নিতীশ কুমার রেড্ডি একটি করে উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বড় একটা সুবিধা পেয়ে গেল স্বাগতিক ভারত।