
জাতীয় ডেস্ক: প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলায় খেজুরগাছ প্রস্তুতের ধুম পড়ে গেছে। মিষ্টি রস সংগ্রহের প্রস্তুতি হিসেবে এখন গাছ পরিষ্কার ও ডালপালা ছাঁটাইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় গাছিরা। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসব গাছে মাটির হাঁড়ি ঝোলানো হবে এবং শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত রস সংগ্রহের কাজ। শীতের এই মৌসুমে গ্রামীণ জনপদে খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্যবাহী সুবাস ছড়িয়ে পড়ার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গাছিরা দা ও হাঁসুয়া নিয়ে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে খেজুরগাছ প্রস্তুত করছেন। গাছের শুকনো ডালপালা পরিষ্কার করার পর নির্দিষ্ট অংশ নিখুঁতভাবে কেটে রস আহরণের উপযোগী করা হচ্ছে। পরবর্তীতে এই কাটা অংশে বিশেষ নল বসিয়ে হাঁড়ি ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। শীতকালে সংগৃহীত এই রস দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু পাটালি ও ঝোলা গুড়। ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পায়েসসহ নানা মুখরোচক খাবার তৈরিতে এই গুড়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় মৌসুমি আয়ের বড় উৎস হয়ে ওঠে গাছিদের জন্য।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে জানিয়েছেন যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রায়গঞ্জ অঞ্চলে খেজুরগাছ ও পেশাদার গাছির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। বসতি স্থাপন, কৃষিজমির রূপান্তর এবং পুরোনো গাছ মরে যাওয়ার কারণে এই ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়েছে। তাছাড়া গাছ কাটার কাজটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পেশার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে চাহিদার তুলনায় স্থানীয় গাছির সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রায়গঞ্জে পর্যাপ্ত স্থানীয় গাছি না থাকায় মৌসুমের শুরুতেই রাজশাহী অঞ্চল থেকে অনেক গাছি কাজের জন্য আসেন। তারা গাছের মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে গাছ প্রস্তুত থেকে শুরু করে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। শীতের এই কয়েক মাস রায়গঞ্জে অবস্থান করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ভোরবেলা ও বিকেলে নিয়মিত গাছে ওঠা, হাঁড়ি নামানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে জাল দিয়ে গুড় তৈরির এই কাজটি বেশ কঠিন হলেও জীবিকার তাগিদে তারা এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, খেজুরগাছ আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির অনন্য ঐতিহ্যের প্রতীক এবং পুষ্টি ও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে নতুন করে খেজুরগাছ রোপণ এবং বর্তমান গাছগুলো সংরক্ষণের জন্য সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকবে, অন্যদিকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।