শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

৩০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: বেসরকারি খাতের আইএফআইসি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের বোঝা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক এক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের স্থিতি ২৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৬৫ শতাংশ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। বরং গত দুই মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক সূচকগুলোর অবনতি ঘটায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিগত সরকারের আমলে এই ব্যাংকটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। সে সময় বিভিন্ন বেনামি ও প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল, যার একটি বড় অংশই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। বর্তমান পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে কোনো বড় ঋণ বিতরণ করা না হলেও পুরনো ঋণগুলোর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় সেগুলো খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপসহ বেশ কিছু প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ ফেরত আসেনি। ফলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত স্ফীত হচ্ছে।

অস্বাভাবিকভাবে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটিকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণেও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির মূলধন কাঠামোর ওপর, যার ফলে তৈরি হয়েছে তীব্র মূলধন ঘাটতি। নিয়মিত সুদ আয় না হওয়া এবং খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে গিয়ে ব্যাংকটি বর্তমানে বড় অঙ্কের পরিচালন লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে। অতীতে নানা অনিয়ম ও বিশেষ সুবিধা নেওয়ার কারণে প্রকৃত চিত্র দীর্ঘদিন লুকিয়ে রাখা হলেও পরবর্তীতে বিশেষ নিরীক্ষায় এসব জালিয়াতি ও বেনামি ঋণের তথ্য বেরিয়ে আসে।

ব্যাংকটির এমন নাজুক পরিস্থিতিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই সেখানে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। তবে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ নির্বাহীদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ বা সফল ঋণ আদায়ের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ ঋণখেলাপি ব্যক্তি পলাতক কিংবা কারাবন্দী থাকায় আইনি প্রক্রিয়াতেও কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না। যদিও এই সময়ের মধ্যে ব্যাংকটির আমানত কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও পাহাড়সমান খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির কারণে আইএফআইসি ব্যাংকের আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page