শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
​দৈনিক মানব দর্পণ মিডিয়া তালিকাভুক্ত (প্রক্রিয়াধীন) নিউজ পোর্টালে সারা বাংলাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের ০১৭১০-১১৯৭১১ (WhatsApp) অথবা office@manobdarpan.com ইমেইলে বায়োডাটা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
শিরোনাম :
শত্রু ড্রোন শিকারে তুরস্কের নতুন প্রযুক্তি ‘গোকাল্প’ উন্মোচন পানি নিয়ে আইন-পরিকল্পনা আছে, নেই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা পিঁপড়ারা কখনো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় না কেন নিজেই বক্স ক্যামেরা বানিয়ে বদলে যাওয়া ঢাকার ছবি তুলেছেন এই আলোকচিত্রী মশা দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ, রাস্তায় মশারি টানিয়ে অবস্থান চার তরুণীর ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ স্টারলিংক নিয়ে মুকেশকে খোঁচা ইলন মাস্কের বিশ্বাসের বাজারে সব মাল ভেজাল মানসিক রোগের ওষুধ নিয়ে এই ৫টি ভুল ধারণা আপনার মধ্যেও আছে? এক মন্দিরেই ১০১ প্রতিমা, ৪ যুগের কাহিনিতে সাজছে ব্যতিক্রমী পূজামণ্ডপ সিম্পসন’স প্যারাডক্স: যখন পরিসংখ্যান মিথ্যা না বলেও ধোঁকা দেয়

নিজেই বক্স ক্যামেরা বানিয়ে বদলে যাওয়া ঢাকার ছবি তুলেছেন এই আলোকচিত্রী

Reporter Name

বিনোদন ডেস্ক: ডিজিটাল যুগে এসে প্রযুক্তির ওপর শতভাগ নির্ভর না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পন্থায় দ্রুত বদলে যাওয়া ঢাকাকে ক্যামেরাবন্দী করেছেন আলোকচিত্রী তূর্য্য মুশফিক। দীর্ঘদিন ধরে নগরায়ণের প্রভাবে হারিয়ে যাওয়া সবুজ, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং যান্ত্রিক এই শহরের নানা অসংগতি তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন নিজের হাতে তৈরি একটি বক্স ক্যামেরার মাধ্যমে। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ছবিগুলো নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের মধ্যেও বেশ কৌতূহল ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কৃত্রিমতাহীন ও আদিম প্রযুক্তির ছোঁয়া থাকায় এই ছবিগুলো সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প ভিন্ন এক মাত্রায় তুলে ধরেছে।

তূর্য্য মুশফিকের এই আলোকচিত্র সিরিজের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিভিং রুইনস’ বা জীর্ণ শহর, যেখানে স্থান পেয়েছে ২২টি অনন্য ছবি। এর মধ্যে দিলু রোডের একটি উড়ালসড়কের নিচে টিকে থাকা জরাজীর্ণ আমগাছের ছবিটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে, যা যান্ত্রিক নগরে মানুষের টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ের প্রতীক। গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে সবুজ কমে যাওয়ার পাশাপাশি কংক্রিটের জঙ্গল যেভাবে বাড়ছে, সেই নির্মম বাস্তবতাই ক্যামেরার লেন্সে ধারণ করেছেন এই শিল্পী। মূলত পনেরো বছর আগে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে এই শহরের রূপান্তর খুব কাছ থেকে দেখেছেন বলেই তার ছবিতে এই না পাওয়ার বেদনা এত গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।

আধুনিক স্মার্টফোন বা ডিএসএলআর ক্যামেরার যুগে কেন প্রাচীন বক্স ক্যামেরা বেছে নিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তূর্য্য জানান এর কারিগরি বৈচিত্র্যের কথা। এই ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তোলার পর নেগেটিভ থেকে পজিটিভ করা এবং ডিজিটাল রূপ দেওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ছবির মধ্যে একধরনের ভিন্নধর্মী শৈল্পিক রূপান্তর ঘটে। এই বিশেষ কৌশলের কারণে ছবিতে এক অদ্ভুত নান্দনিকতা ও বিকৃত দৃষ্টি তৈরি হয়, যা তাঁর দীর্ঘদিনের শিল্পচর্চার একটি পরিচিত ধরন বা সিগনেচার হয়ে উঠেছে। ছবি তোলার পাশাপাশি কোলাজ বা ভাস্কর্য নির্মাণের মাধ্যমে নিজের শিল্পকর্মকে আরও সমৃদ্ধ করার কাজটি তিনি নিয়মিত করে চলেছেন।

নিজহাতে এই বক্স ক্যামেরা তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং ও সময়সাপেক্ষ একটি কাজ। মোহাম্মদপুরের স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি এবং পাটুয়াটুলীর চশমার কারিগরদের সহায়তায় দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ক্যামেরার কাঠামো ও লেন্স তৈরি করেন এই আলোকচিত্রী। পরবর্তীতে ক্যামেরাটির ভেতরেই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফিল্ম ডেভেলপ করার ব্যবস্থা থাকায় এটি দিয়ে নিখুঁতভাবে সাদা-কালো ছবি ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। ব্যস্ত শিক্ষকতা পেশার ফাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঠশালার এই শিক্ষক দিনের আলোতেই নিজের তৈরি ক্যামেরা নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন রাজধানীর অলিগলিতে।

প্রদর্শনীতে এই বক্স ক্যামেরাটি প্রদর্শিত হওয়ার পর তরুণ আলোকচিত্রী ও শিক্ষার্থীরা এটি তৈরির বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নিজের এই কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও প্রকাশ করেছেন তিনি, যেখানে ক্যামেরা তৈরির পুরো দিনলিপি ও গবেষণার নানান দিক তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ক্যামেরাটিকে আরও উন্নত করে রঙিন ছবি তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে তূর্য্য মুশফিকের মূল স্বপ্ন হলো—একদিন এমন এক সবুজ ও মানবিক ঢাকার ছবি তিনি ক্যামেরাবন্দী করবেন, যেখানে সব মানুষ ও প্রকৃতি মুক্তভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page