
জাতীয় ডেস্ক: দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ কিংবা কোনো ধরনের পরিচয় কখনো অন্তরায় হতে পারে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এটি ছিল তার অন্যতম বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক, যেখানে দেশের সার্বিক সামাজিক সম্প্রীতি ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে নিজেদের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তারা বিগত দিনে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের বঞ্চনা এবং সামাজিক নিরাপত্তা সংকটের কথা উল্লেখ করে একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে ধর্মীয় প্রতিনিধিদের কথা শোনেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান প্রশাসন প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও সম্পত্তির পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করতে বদ্ধপরিকর।
সভায় বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহাসিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন যে, এই দেশের মাটি ও বাতাসে সব ধর্মের মানুষের সমান অংশীদারিত্ব রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু বলে কোনো ভেদাভেদ এই রাষ্ট্রে টিকতে দেওয়া হবে না এবং রাষ্ট্র তার প্রতিটি সন্তানকে সমান চোখে দেখবে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে কোণঠাসা করার অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না এবং অপরাধী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সবশেষে, সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সকল সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশের অগ্রযাত্রায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। এই ধরনের মতবিনিময় সভা সমাজে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।