
জাতীয় ডেস্ক: মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে হাসপাতালের একদল ছাত্র-জনতা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা তাঁর অপসারণের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা তত্ত্বাবধায়কের নানা অনিয়মের চিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় কোনো কোনো প্ল্যাকার্ডে বিতর্কিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই চিকিৎসকের ছবিও প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্যদানকারী নেতারা অভিযোগ করেন যে, ডা. বাহাউদ্দিন বিগত সরকারের আমলে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। বিশেষ করে, গত বছরের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে মানিকগঞ্জে আহত শিক্ষার্থীরা যাতে হাসপাতালে এসে জরুরি চিকিৎসা সেবা না পান, সেজন্য তিনি পরিকল্পিতভাবে হাসপাতালের প্রধান ফটক বন্ধ করে রেখেছিলেন। আহতদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার মতো এমন অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, একজন চিকিৎসকের পদে থেকে এমন রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক ও অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন যে, হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি বড় ধরনের অনৈতিক আর্থিক সুবিধা অর্জন করেছেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাঁকে দ্রুত অপসারণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানান তাঁরা। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন আন্দোলনকারীরা।
উক্ত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আমীর হামজা পিন্টু, আনোয়ার হোসেন, সাইদুর রহমান ও নূরুল ইসলামসহ স্থানীয় আন্দোলনের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ বক্তব্য রাখেন। আন্দোলন চলাকালে সংবাদকর্মীরা এই ঘটনার বিষয়ে তত্ত্বাবধায়কের বক্তব্য নিতে গেলে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের মূল প্রবেশপথে বাইরে থেকে তালা ঝুলতে দেখতে পান। পরবর্তীতে হাসপাতালের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিকল্প পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান সংবাদকর্মীরা। প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে ডা. বাহাউদ্দিন দাবি করেন যে, হাসপাতালে অনেক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ভুলবশত কেউ যেন অনির্ধারিত পথে ভেতরে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সেজন্যই ওই প্রবেশপথটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনীত যাবতীয় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারি চাকুরে হিসেবে তাঁদের যেকোনো সরকারের আমলেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং তিনি বিধি অনুযায়ীই নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করে আসছেন। এদিকে হাসপাতালের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও অসন্তোষের কারণে স্থানীয় সাধারণ রোগীদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাকার্যক্রম ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।